ব্ল্যাকরকের সিআইও বলছেন, AI বিনিয়োগে এখনই থামার সময় হয়নি
ব্ল্যাকরকের সিআইও হেলেন জুয়েল বলেছেন, AI বিনিয়োগ চক্র এখনও অতিরিক্ত ব্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আগামী কয়েক বছর ধরে এই খাতে বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রবাহিত হবে। আগের বিনিয়োগ চক্রের মতো বর্তমান AI বুমে অতিরিক্ত ব্যয়ের কোনো লক্ষণ নেই।
ব্ল্যাকরকের সিআইও হেলেন জুয়েল বলেছেন, AI বিনিয়োগ চক্র এখনও অতিরিক্ত ব্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আগামী কয়েক বছর ধরে এই খাতে বিপুল পরিমাণ মূলধন প্রবাহিত হবে। আগের বিনিয়োগ চক্রের মতো বর্তমান AI বুমে অতিরিক্ত ব্যয়ের কোনো লক্ষণ নেই।
বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপক ব্ল্যাকরকের শীর্ষ নির্বাহী বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI খাতে বিনিয়োগ চক্র এখনও অতিরিক্ত ব্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্ল্যাকরকের ফান্ডামেন্টাল ইকুইটিজ আন্তর্জাতিক প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা হেলেন জুয়েল এই মন্তব্য করেছেন।
জুয়েল বলেছেন, AI খাতে আগামী কয়েক বছর বিনিয়োগের দিক থেকে খুব পরিষ্কার। কারণ এই খাতে বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ হতে দেখা যাবে। তিনি বলেন, প্রতিটি মূলধন ব্যয় চক্রেই এক সময় অতিরিক্ত ব্যয় শুরু হয়। কিন্তু বর্তমান চক্রে সেই পর্যায় এখনও আসেনি।
ব্ল্যাকরকের এই মন্তব্য প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় বার্তা বহন করে। গত কয়েক বছরে AI প্রযুক্তিতে ব্যাপক অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে। কোম্পানিগুলো ডেটা সেন্টার তৈরি করছে এবং অত্যাধুনিক চিপ কিনছে। অনেক বিশ্লেষক এই ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ব্ল্যাকরক মনে করছে, এই বিনিয়োগ এখনও যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রয়েছে।
আগের প্রযুক্তি বুমের সঙ্গে বর্তমান AI বুমের তুলনা করলে কিছু পার্থক্য চোখে পড়ে। ডটকম যুগে ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হয়েছিল। সেই বিনিয়োগের অনেকটাই পরবর্তী সময়ে ক্ষতিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান AI বিনিয়োগ মূলত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো করছে। এই কোম্পানিগুলোর কাছে প্রচুর নগদ অর্থ রয়েছে। তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগ করছে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাত AI ব্যবহার করে নানা ধরনের সেবা তৈরি করছে। ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা এবং ই-কমার্স খাতে AI-র ব্যবহার বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী AI বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের ডেভেলপার এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তারা আন্তর্জাতিক মানের AI প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পাবে।
জুয়েল আরও বলেছেন, AI বিনিয়োগ চক্রের বর্তমান অবস্থা আগের চক্রের চেয়ে ভিন্ন। কোম্পানিগুলো এখন আরও হিসাব করে বিনিয়োগ করছে। তারা শুধু AI-র সম্ভাবনা নয়, বাস্তব ফলাফলও দেখতে চায়। এই বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি বিনিয়োগকে আরও টেকসই করে তুলবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্ল্যাকরকের এই মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে। AI খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা করছেন। তবে বিনিয়োগের আগে কোম্পানিগুলোর মৌলিক শক্তি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
সব মিলিয়ে, AI বিনিয়োগ চক্র এখনও তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছায়নি। আগামী কয়েক বছর এই খাতে আরও বড় বিনিয়োগ আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Bloomberg Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...