বিমা কোম্পানিতে AI দুর্যোগ মডেলিং: হ্যালুসিনেশনেই পড়বেন নাকি?
বিমা শিল্পে দুর্যোগের ঝুঁকি নির্ধারণে জেনারেটিভ AI ব্যবহার শুরু হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করছেন, AI-এর হ্যালুসিনেশন ও বিপণনের যুক্তি ঝুঁকি মূল্যায়নের নির্ভুলতা নষ্ট করতে পারে।
বিমা শিল্পে দুর্যোগের ঝুঁকি নির্ধারণে জেনারেটিভ AI ব্যবহার শুরু হয়েছে। গবেষকরা সতর্ক করছেন, AI-এর হ্যালুসিনেশন ও বিপণনের যুক্তি ঝুঁকি মূল্যায়নের নির্ভুলতা নষ্ট করতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমা কোম্পানিগুলো এখন দুর্যোগ মডেলিংয়ের জন্য জেনারেটিভ AI ব্যবহার শুরু করেছে। The Decoder-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমাকারীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নির্ধারণে ডিফিউশন মডেল নামক এক ধরনের জেনারেটিভ AI নিয়োগ করছে। এই মডেলগুলো সিন্থেটিক বা কৃত্রিম আবহাওয়ার তথ্য তৈরি করতে সক্ষম।
প্রচলিত পদ্ধতিতে দুর্যোগের ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়। কিন্তু অনেক অঞ্চলে পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার তথ্য নেই। সেখানেই কাজ করছে জেনারেটিভ AI। এটি হাজার হাজার সম্ভাব্য আবহাওয়ার ঘটনা তৈরি করতে পারে, যা বাস্তবে কখনো ঘটেনি কিন্তু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। বিমা কোম্পানিগুলো আশা করছে, এই প্রযুক্তি তাদের আরও সঠিক ঝুঁকি মূল্যায়নে সাহায্য করবে।
তবে গবেষকরা এই প্রযুক্তি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, AI মডেলের হ্যালুসিনেশন একটি বড় সমস্যা। AI হ্যালুসিনেশন বলতে বোঝায় যখন মডেলটি ভুল বা অবাস্তব তথ্য তৈরি করে কিন্তু সেগুলোকে সত্যি বলে উপস্থাপন করে। দুর্যোগ মডেলিংয়ের ক্ষেত্রে এর অর্থ হতে পারে ভুল ঝুঁকি পূর্বাভাস, যা বিমা কোম্পানির জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হলো সেলস লজিক বা বিক্রয়-কেন্দ্রিক যুক্তি। গবেষকরা বলছেন, বিমা কোম্পানিগুলো হয়তো তাদের পণ্য বিক্রির সুবিধার জন্য AI মডেলের ফলাফলকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারে যা বাস্তবতার চেয়ে বেশি ইতিবাচক। এর ফলে গ্রাহকরা প্রকৃত ঝুঁকি সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও ভূমিধসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে নিয়মিত ঘটে। বাংলাদেশের বিমা শিল্প যদি এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায়, তাহলে AI-এর হ্যালুসিনেশন ও সেলস লজিকের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত AI-ভিত্তিক ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা।
সব মিলিয়ে, জেনারেটিভ AI দুর্যোগ মডেলিংয়ে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু গবেষকদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা যাবে না। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে পারলেই কেবল এই প্রযুক্তি থেকে প্রকৃত উপকার পাওয়া সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...