ভারতের AI কপাইলট বানালেও ৫০ বছরের ডেটা সংস্কার ছাড়া লাভ নেই
ভারতের AI কোম্পানিগুলো চ্যাটবট বা কপাইলট তৈরি করতে পারলেও সরকারি খাতের 50 বছরের পুরনো ডেটা অবকাঠামো সংস্কার না করলে প্রযুক্তির সার্থকতা সীমিত। ডেটা গভর্নেন্স ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে The Ken-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ।
ভারতের AI কোম্পানিগুলো চ্যাটবট বা কপাইলট তৈরি করতে পারলেও সরকারি খাতের 50 বছরের পুরনো ডেটা অবকাঠামো সংস্কার না করলে প্রযুক্তির সার্থকতা সীমিত। ডেটা গভর্নেন্স ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে The Ken-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ।
ভারতের AI ভেন্ডররা এখন চমৎকার কপাইলট বা সহায়ক সফটওয়্যার তৈরি করতে সক্ষম। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থায় 50 বছর ধরে জমে থাকা ডেটার জট, অসংগঠিত ফাইল এবং পুরনো অবকাঠামো ঠিক না করা পর্যন্ত এই AI সমাধান প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারবে না। The Ken-এর এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটি বলছে, AI প্রযুক্তির সক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, সরকারি ডেটার ভিত্তি ততটাই দুর্বল। কপাইলট তৈরি করতে পারা মানে এই নয় যে সেগুলো সরকারি কাজে সঠিকভাবে কাজ করবে। ডেটা যদি ভুল, অসম্পূর্ণ বা সঠিকভাবে সংরক্ষিত না থাকে, তাহলে AI-র আউটপুটও নির্ভরযোগ্য হবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নতুন AI টুল যোগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন একটি সামগ্রিক ডেটা গভর্নেন্স কাঠামো, যেখানে ডেটার মান, নিরাপত্তা এবং অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণের স্পষ্ট নিয়ম থাকবে। সরকারি সংস্থাগুলোকে ডেটা আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করতে হবে, পাশাপাশি AI প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নেও মনোযোগ দিতে হবে।
The Ken-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ডিজিটাল পরিষেবা চালু থাকলেও অন্তর্নিহিত ডেটা সিস্টেমগুলো এখনও সাইলো-ভিত্তিক। এক বিভাগের ডেটা অন্য বিভাগের সাথে সহজে শেয়ার করা যায় না। এই অবস্থায় AI-র পূর্ণ সুবিধা পাওয়া অসম্ভব।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই আলোচনা প্রাসঙ্গিক। দেশের সরকারি সেবায় ডিজিটালাইজেশন বাড়লেও ডেটার মান ও সংগঠন নিয়ে কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও পলিসিমেকারদের জন্য এখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ আছে। AI প্রকল্প শুরুর আগে ডেটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার শক্তিশালী করা জরুরি।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডেটা এন্ট্রি থেকে শুরু করে স্টোরেজ এবং অ্যানালাইসিস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মান নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। ডেটা স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা, নিয়মিত অডিট করা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে ভিত্তি মজবুত করা সম্ভব। তবেই AI-নির্ভর সেবা সাধারণ মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।
ভবিষ্যতে AI-নির্ভর সরকারি সেবা দিতে হলে প্রযুক্তি আর ডেটা অবকাঠামো একসাথে এগোতে হবে। শুধু কপাইলট তৈরি করলেই হবে না, সেই কপাইলট যেন সঠিক ডেটার উপর ভর করে কাজ করতে পারে সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Ken
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...