বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি: ২০২৫ সালে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে এআই সেবার ভূমিকা কতটুকু?
বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি ২০২৫ সালে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবার অবদান ২০-২৫% হতে পারে। দেশীয় কোম্পানি ও সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও দক্ষ জনবল ও বিনিয়োগের ঘাটতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের আইটি রপ্তানি ২০২৫ সালে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবার অবদান ২০-২৫% হতে পারে। দেশীয় কোম্পানি ও সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও দক্ষ জনবল ও বিনিয়োগের ঘাটতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাত ২০২৫ সালে ১.৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এগিয়ে চলেছে। এই অগ্রযাত্রায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সেবার অবদান ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে আইটি রপ্তানি ছিল প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার, যেখানে এআই-সম্পর্কিত সেবার অংশ ছিল আনুমানিক ১২-১৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ২০-২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা রপ্তানি আয়ে প্রায় ৩৫০-৪৫০ মিলিয়ন ডলার যোগ করবে।
বাংলাদেশের আইটি খাতে এআই সেবার বিস্তার মূলত তিনটি ক্ষেত্রে লক্ষণীয়: সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং মেশিন লার্নিং-ভিত্তিক সমাধান। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন ‘ব্রেইন স্টেশন বাংলাদেশ’, ‘টাইম মেশিন’, এবং ‘ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ’ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে এআই-চালিত পণ্য ও সেবা রপ্তানি করছে। বিশেষ করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক চ্যাটবট, ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার এবং স্বয়ংক্রিয় গ্রাহক সেবা প্ল্যাটফর্মের চাহিদা উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
তবে এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, বাংলাদেশের এআই সেবা খাতকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। দক্ষ জনবলের অভাব, পর্যাপ্ত গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিনিয়োগের ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক মানের ডেটা সুরক্ষা আইনের অপ্রতুলতা এ খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাধা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে আইটি খাতে মোট বিনিয়োগের মাত্র ৮% আরঅ্যান্ডডি খাতে ব্যয় হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশ ভারতের তুলনায় অনেক কম।
সরকারি উদ্যোগ যেমন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ কৌশলপত্র এআই খাতকে উৎসাহিত করছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে ‘ন্যাসকো’ এবং ‘বেসিস’-এর যৌথ উদ্যোগে বেশ কয়েকটি এআই ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৫টি এআই-ভিত্তিক স্টার্টআপকে ২৫ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
পাঠকের জন্য actionable insight হলো: আইটি উদ্যোক্তাদের উচিত এআই-নির্দিষ্ট সার্টিফিকেশন যেমন টেনসরফ্লো ডেভেলপার, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) এআই সার্টিফিকেশন অর্জনে বিনিয়োগ করা। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ‘ডেটা প্রাইভেসি কমপ্লায়েন্স’ (যেমন জিডিপিআর) মেনে চলা জরুরি। ২০২৫ সালের মধ্যে ১.৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এআই সেবার অংশীদারিত্ব বাড়াতে হলে, দক্ষতা উন্নয়ন ও নীতি সহায়তার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: AIখবর রিসার্চ
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
