হাসপাতালে এআই অ্যাপয়েন্টমেন্ট: রোগীর অপেক্ষার সময় ৬০% কমিয়ে আনল হসপিটালহেলপার বিডি
দেশীয় স্টার্টআপ হসপিটালহেলপার বিডি এআই-ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করে রোগীর অপেক্ষার সময় ৬০% কমিয়েছে। ঢাকার হাসপাতালে পাইলট প্রকল্প সফল, ভবিষ্যতে গ্রামীণ পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা।
দেশীয় স্টার্টআপ হসপিটালহেলপার বিডি এআই-ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু করে রোগীর অপেক্ষার সময় ৬০% কমিয়েছে। ঢাকার হাসপাতালে পাইলট প্রকল্প সফল, ভবিষ্যতে গ্রামীণ পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে দেশীয় টেক স্টার্টআপ হসপিটালহেলপার বিডি (HospitalHelper BD)। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি দেশের কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং সিস্টেম চালু করেছে। এই সিস্টেম চালুর পর রোগীদের গড় অপেক্ষার সময় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে এসেছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা এই সিস্টেমটি রোগীর আগমনের সময়, চিকিৎসকের প্রাপ্যতা, জরুরি অবস্থা এবং পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাস বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করে দেয়। হসপিটালহেলপার বিডি-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জানান, ‘আমাদের AI মডেল প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার ডাটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে, যার ফলে রোগীকে আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এতে শুধু রোগীর সময়ই বাঁচছে না, হাসপাতালের রিসোর্স ব্যবহারের দক্ষতাও বেড়েছে।’
এই সিস্টেমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি রোগীর ফোন নম্বর বা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম স্লট বুকিং, স্বয়ংক্রিয় রিমাইন্ডার এবং প্রয়োজনে স্লট পুনঃনির্ধারণের সুযোগ দেয়। এছাড়াও জরুরি রোগীদের জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করছে AI। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই সিস্টেম চালু হওয়ার পর থেকে হাসপাতালগুলোর ওপিডি (আউটডোর) বিভাগে রোগীর ভিড় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং চিকিৎসকরা এখন নির্ধারিত সময়ে আরও বেশি রোগী দেখতে পারছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে অপেক্ষার সময় কখনো কখনো অর্ধেক দিনও ছাড়িয়ে যায়। হসপিটালহেলপার বিডি-র এই AI সলিউশন শুধু সময় বাঁচাচ্ছে না, বরং স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মডেলটি সফল হলে দেশের অন্যান্য হাসপাতাল এবং গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও এটি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে হসপিটালহেলপার বিডি টেলিমেডিসিন সেবার সাথে এই AI সিস্টেমকে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে রোগীরা ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থাও হবে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইজেশন এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: AIখবর রিসার্চ
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
