বছরখানেক আগেই পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করবে AI, জানুন কী লাভ
MIT ও Mass General Brigham-এর গবেষকরা এমন একটি AI মডেল তৈরি করেছেন যা রোগীর মেডিকেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বছরখানেক আগেই পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির গোপনীয়তা ও অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
MIT ও Mass General Brigham-এর গবেষকরা এমন একটি AI মডেল তৈরি করেছেন যা রোগীর মেডিকেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে বছরখানেক আগেই পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি চিহ্নিত করতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির গোপনীয়তা ও অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT) এবং Mass General Brigham-এর গবেষকরা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেল রোগীদের মেডিকেল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে অন্তরঙ্গ সঙ্গীর সহিংসতা বা পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে। গবেষণাটি ZDNet AI-তে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের দাবি, এই AI মডেল রোগীর নিজে থেকে সহিংসতার কথা জানানোর অনেক বছর আগেই ঝুঁকি চিহ্নিত করতে সক্ষম। সাধারণত ভুক্তভোগীরা ভয় বা লজ্জায় ঘটনা প্রকাশ করেন না। ফলে চিকিৎসকরা প্রায়ই অন্ধকারে থাকেন। এই মডেল সেই ফাঁক পূরণ করতে পারে।
মডেলটি রোগীর ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (EHR) থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে রয়েছে হাসপাতালে ভর্তির ইতিহাস, জখমের ধরন, মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং ওষুধের ব্যবহার। AI এই ডেটা থেকে প্যাটার্ন খুঁজে বের করে যা সহিংসতার ঝুঁকি নির্দেশ করে। গবেষকরা বলেছেন, মডেলটি 80 শতাংশের বেশি নির্ভুলতার সাথে ঝুঁকি শনাক্ত করতে পেরেছে।
তবে এই প্রযুক্তি নিয়ে নৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI মডেল যদি ভুল তথ্য দেয় তাহলে নিরপরাধ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হতে পারেন। অন্যদিকে, ডেটা ফাঁস হলে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। গবেষকরা স্বীকার করেছেন যে মডেলটি ব্যবহারের আগে কঠোর নিয়মকানুন তৈরি করা জরুরি।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। দেশে পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা লুকিয়ে থাকে। চিকিৎসকরা প্রায়ই রোগীর শারীরিক জখম দেখেও কারণ বুঝতে পারেন না। যদি এই ধরনের AI মডেল বাংলাদেশের হাসপাতালে ব্যবহার করা হয়, তবে তা সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত সনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ডেটা গোপনীয়তা ও আইনি কাঠামো তৈরি করা আগে জরুরি।
গবেষকরা এখন মডেলটির নির্ভুলতা বাড়ানো এবং পক্ষপাত কমানোর কাজ করছেন। তারা চান মডেলটি যেন সব বয়স, লিঙ্গ ও সামাজিক শ্রেণির জন্য সমানভাবে কাজ করে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি চিকিৎসকদের হাতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার দিতে পারে। তবে তা যাতে ভুক্তভোগীর ক্ষতি না করে সেদিকে নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: ZDNet AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...