বাংলাদেশ এখন চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব AI জোটে পর্যবেক্ষক, কী সুবিধা পাবে?
বাংলাদেশ চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থার (ডব্লিউএআইসিও) পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে। ২৯ দেশ নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক এআই উদ্ভাবনে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে।
বাংলাদেশ চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব এআই সহযোগিতা সংস্থার (ডব্লিউএআইসিও) পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছে। ২৯ দেশ নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটি আন্তর্জাতিক এআই উদ্ভাবনে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করবে।
বাংলাদেশ চীনের নেতৃত্বাধীন বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক সহযোগিতা সংস্থার (ডব্লিউএআইসিও) পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানিয়েছে। গত ১৬ জুলাই ২৯ দেশ নিয়ে সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
সাংহাইভিত্তিক এই সংস্থার মূল লক্ষ্য হলো উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর করা। বৈশ্বিক এআই উন্নয়নে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের এই পর্যবেক্ষক পদে যোগ দেওয়াকে এআই খাতে দেশের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডব্লিউএআইসিও মূলত চীনের প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। ২০২৩ সালে চীন এই সংস্থার ধারণা উপস্থাপন করে। এরপর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ২০২৪ সালে ২৯ দেশের সম্মতিতে সংস্থাটি চালু হয়। সংস্থাটির সদর দপ্তর সাংহাইতে অবস্থিত। সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, কাজাখস্তানসহ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।
এই সংস্থার পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ এআই নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নিতে পারবে। তবে সদস্য দেশগুলোর মতো ভোট দেওয়ার ক্ষমতা পর্যবেক্ষকদের থাকবে না। তবুও এই পদ থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এআই সহযোগিতার কাঠামোর ভেতরে থেকে তথ্য ও অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করতে পারবে।
বাংলাদেশের জন্য এই সিদ্ধান্তের তাৎপর্য অনেক। দেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা এআই খাতে নতুন সুযোগ পেতে পারে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এআই গবেষণায় যুক্ত হতে পারবে। পাশাপাশি স্থানীয় স্টার্টআপগুলোও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ খুঁজে পেতে পারে।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, বাংলাদেশের উচিত একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে এআই সহযোগিতাও বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় উৎস এখনো পশ্চিমা বিশ্বে।
বাংলাদেশ সম্প্রতি এআই খাতে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এআই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু হয়েছে। ডব্লিউএআইসিওতে পর্যবেক্ষক হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এআই জোটে প্রথমবারের মতো যুক্ত হলো।
এই পর্যবেক্ষক পদ থেকে বাংলাদেশের মূল সুবিধা হলো বৈশ্বিক এআই মান নির্ধারণে অংশ নেওয়ার সুযোগ। ভবিষ্যতে সদস্য পদ পেলে বাংলাদেশ সরাসরি সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারবে। তবে তার আগে পর্যবেক্ষক হিসেবে সংস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেশের স্বার্থে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেটি দেখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই সহযোগিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হলে বাইরের জ্ঞান ও প্রযুক্তি আহরণের বিকল্প নেই।
এই পর্যবেক্ষক পদ বাংলাদেশের এআই যাত্রায় একটি নতুন অধ্যায় শুরু করল। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ কতটা এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Sarabangla Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...