বাংলাদেশ এখন AI নীতিনির্ধারণে সরাসরি অংশ নেবে, WAICO-তে পর্যবেক্ষক হওয়ার আবেদন
আন্তর্জাতিক AI নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে WAICO-তে পর্যবেক্ষক হওয়ার আবেদন করছে বাংলাদেশ। এই উদ্যোগ দেশের গবেষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক AI নীতিনির্ধারণে অংশ নিতে WAICO-তে পর্যবেক্ষক হওয়ার আবেদন করছে বাংলাদেশ। এই উদ্যোগ দেশের গবেষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উন্নয়নে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড AI কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (WAICO)-এ পর্যবেক্ষক হওয়ার আবেদন করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক AI নীতিনির্ধারণ ও সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। ডেইলি সান জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের AI গবেষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিতে পারে।
WAICO হলো বৈশ্বিক AI নীতি ও মান উন্নয়নে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। পর্যবেক্ষক মর্যাদা পেলে বাংলাদেশ সেখানে আলোচনায় অংশ নিতে পারবে, তবে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না। তবুও এই অবস্থান দেশটিকে AI-সংক্রান্ত বৈশ্বিক সিদ্ধান্তে সরাসরি অবগত থাকার এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি বাংলাদেশের AI খাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় AI-চালিত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে AI ব্যবহারের উদ্যোগ। WAICO-তে পর্যবেক্ষক হওয়া গেলে এই প্রকল্পগুলো আরও আন্তর্জাতিক মান পেতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো গ্লোবাল AI ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশের তরুণ ডেভেলপার ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এই খবর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে দেশের ৬ লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করছে। WAICO-র সঙ্গে যুক্ত হলে তারা আধুনিক AI টুলস ও প্রশিক্ষণের অ্যাক্সেস পেতে পারে। এর ফলে তাদের আয় ও দক্ষতা উভয়ই বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তবে এই পথ মসৃণ নয়। পর্যবেক্ষক মর্যাদা পেতে হলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের AI নীতি ও ডেটা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমানে দেশে ডেটা সুরক্ষা আইন থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, WAICO-তে যোগ দিলে এই খাতে সংস্কারের গতি বাড়বে।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতও এগিয়ে আসছে। দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে AI-তে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা করছে। কিন্তু তাদের গবেষণার ফল বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। WAICO-র সঙ্গে সংযোগ এই ব্যবধান কমাতে সাহায্য করতে পারে।
বাংলাদেশের AI খাতের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, কিন্তু তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর। WAICO-তে পর্যবেক্ষক হওয়া সেই সহযোগিতার প্রথম ধাপ হতে পারে। এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশ শুধু AI-এর ব্যবহারকারী নয়, বরং বৈশ্বিক AI উন্নয়নের অংশীদার হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...