বাংলাদেশের ৩৩% সিইওর ধারণা, এআই কমিয়ে দেবে জুনিয়র চাকরি: পিডব্লিউসি জরিপ
পিডব্লিউসির জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ সিইও মনে করেন এআই জুনিয়র চাকরি কমিয়ে দেবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য সময় এসেছে নতুন দক্ষতা অর্জনের।
পিডব্লিউসির জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ সিইও মনে করেন এআই জুনিয়র চাকরি কমিয়ে দেবে। তরুণ প্রজন্মের জন্য সময় এসেছে নতুন দক্ষতা অর্জনের।
বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মনে করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী তিন বছরে তাদের প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র পর্যায়ের চাকরির সংখ্যা কমিয়ে দেবে। আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির সর্বশেষ ‘সিইও সার্ভে ২০২৫’ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি সিইওদের ৩৩ শতাংশ এআই-চালিত অটোমেশনকে এন্ট্রি-লেভেলের কাজের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন।
এই জরিপটি বাংলাদেশের কর্পোরেট অঙ্গনে এআই-এর প্রভাব নিয়ে প্রথম বড় মাপের ধারণা দিচ্ছে। পিডব্লিউসি জানিয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া সিইওরা মনে করছেন, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এমন সব কাজ স্বয়ংক্রিয় করে ফেলবে যা বর্তমানে নতুন শিক্ষার্থী বা জুনিয়র কর্মীরা করে থাকেন। বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি, বেসিক রিপোর্ট তৈরি, গ্রাহক সেবার প্রাথমিক স্তরের কাজ ও কোডিংয়ের কিছু অংশ এআই-এর মাধ্যমে সহজেই করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এই খবর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার আইটি সেক্টর, আউটসোর্সিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর নির্ভরশীল। পিডব্লিউসির জরিপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, এআই শুধু চাকরি প্রতিস্থাপন করবে না, বরং দক্ষতার ধরন বদলে দেবে। যারা কেবলমাত্র বেসিক কাজ শিখছেন, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি। তবে যারা এআই টুলস ব্যবহার করে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারবেন, তাদের জন্য সুযোগও তৈরি হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এখনই এআই-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও সিলেবাসে এআই লিটারেসি যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। পিডব্লিউসি জরিপে আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশি সিইওরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় এআই গ্রহণে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও, তারা এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সম্পর্কে আশাবাদী। প্রায় ৪০ শতাংশ সিইও মনে করেন, এআই আগামী পাঁচ বছরে তাদের কোম্পানির রাজস্ব বাড়াবে।
সব মিলিয়ে, এআই-এর এই প্রভাব এড়ানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সময় এখন নিজেদের পুনরায় দক্ষ করে তোলার। যারা এআই-কে ভয় না পেয়ে কাজে লাগাতে শিখবেন, তারাই আগামী দিনের বাজারে টিকে থাকবেন। পিডব্লিউসির এই জরিপ বাংলাদেশের কর্পোরেট নেতাদের জন্য যেমন সতর্কবার্তা, তেমনি তরুণদের জন্য একটি জাগরণের আহ্বান।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Google News BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
