আপনার লেখা AI মডেলে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা জানার সহজ উপায় এলো
একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রকাশের আগে কন্টেন্টে বিশেষ চিহ্ন (mark) যোগ করলে AI মডেল তা শিখলেও সেই চিহ্ন অটুট থাকে। এই পদ্ধতি ক্রিপ্টোগ্রাফি বা মেটাডেটা ছাড়াই কাজ করে এবং মডেল চেইনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় কালির মতো ছড়িয়ে পড়ে।
একটি নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, প্রকাশের আগে কন্টেন্টে বিশেষ চিহ্ন (mark) যোগ করলে AI মডেল তা শিখলেও সেই চিহ্ন অটুট থাকে। এই পদ্ধতি ক্রিপ্টোগ্রাফি বা মেটাডেটা ছাড়াই কাজ করে এবং মডেল চেইনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় কালির মতো ছড়িয়ে পড়ে।
আপনার লেখা ব্লগ, আর্টিকেল বা কোড কি কোনও AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এক অভিনব পদ্ধতি নিয়ে এসেছেন গবেষকরা। dev.to-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কন্টেন্ট প্রকাশের আগে তাতে একটি অদৃশ্য কিন্তু স্থায়ী চিহ্ন (mark) এম্বেড করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা। এই চিহ্নটি AI মডেলের ভেতরে থেকে যায় এবং যদি সেই মডেল দিয়ে অন্য কোনো মডেল তৈরি করা হয়, তাহলে নতুন মডেলেও সেই চিহ্ন টিকে থাকে। গবেষকরা এই প্রক্রিয়াটিকে তেজস্ক্রিয় কালির (radioactive ink) সঙ্গে তুলনা করেছেন যা পুরো মডেল শৃঙ্খলে ছড়িয়ে পড়ে।
এই পদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ক্রিপ্টোগ্রাফি বা মেটাডেটার মতো প্রচলিত পদ্ধতি ব্যবহার করে না। বরং এটি নির্ভর করে স্টাবর্ন এম্বেডিং (stubborn embedding) নামক একটি কৌশলের ওপর। এই কৌশলে কন্টেন্টের ভেতরে এমনভাবে তথ্য লুকিয়ে রাখা হয় যা AI মডেল প্রশিক্ষণের সময়ও মুছে যায় না। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি কারণ বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা জানতে চান তাদের কাজ কোন AI মডেলে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং তারা যাতে সেই ব্যবহার ট্র্যাক করতে পারেন।
প্রথাগত পদ্ধতিগুলো যেমন মেটাডেটা বা ওয়াটারমার্ক সহজেই সরিয়ে ফেলা যায় বা উপেক্ষা করা যায়। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতি কন্টেন্টের গভীরে এম্বেড করা থাকে এবং মডেল প্রশিক্ষণের সময়ও টিকে থাকে। গবেষকরা দাবি করছেন, এই পদ্ধতি মডেল চেইনের প্রতিটি স্তরে কাজ করে। অর্থাৎ, যদি একটি কোম্পানি তাদের মডেল অন্য কোম্পানিকে দেয় এবং সেই কোম্পানি তার ওপর ভিত্তি করে নতুন মডেল তৈরি করে, তাহলে মূল কন্টেন্টের চিহ্ন নতুন মডেলেও পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক ফ্রিল্যান্সার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার রয়েছেন যারা নিয়মিত ব্লগ, টিউটোরিয়াল এবং কোড প্রকাশ করেন। তাদের কন্টেন্ট বর্তমানে বিভিন্ন AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার হচ্ছে কিনা তা জানার কোনো সহজ উপায় ছিল না। এই পদ্ধতি চালু হলে তারা সহজেই তাদের কন্টেন্টের ব্যবহার ট্র্যাক করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্মে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হতে পারে। কারণ তারা জানতে পারবেন তাদের কাজ কোন বড় AI কোম্পানি ব্যবহার করছে এবং প্রয়োজনে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্যও এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। তারা তাদের গবেষণাপত্র বা একাডেমিক কাজের ওপর এই চিহ্ন ব্যবহার করে নিশ্চিত হতে পারেন যে তাদের কাজ সঠিকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বর্তমানে AI মডেলগুলো প্রায়ই কন্টেন্টের উৎস উল্লেখ না করেই সেগুলো ব্যবহার করে, যা কপিরাইট লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি করে। এই নতুন পদ্ধতি সেই ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।
তবে এই পদ্ধতি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় ভাষার মডেলগুলোর (LLMs) ক্ষেত্রে এই চিহ্ন কতটা টিকে থাকে তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি আরও পরিশীলিত হলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা তাদের কাজের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...