AI যুগে বাংলাদেশের চাকরি ঝুঁকিতে, CPD বলছে প্রস্তুতি নেই
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD) এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত নয়। সংস্থাটি দ্রুত নীতি সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD) এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত নয়। সংস্থাটি দ্রুত নীতি সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) যুগের জন্য প্রস্তুত নয় বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (CPD)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের কাজের বাজারে টিকে থাকতে দ্রুত নীতি সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির শিরোনাম Is Bangladesh Ready for the Future of Work? Preparing the Labour Market for Automation, AI, and Structural Transition। এতে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অটোমেশন ও AI-র কারণে বিশ্বব্যাপী চাকরির ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত নয়।
CPD বলেছে, স্বল্প-দক্ষ কাজের ওপর বাংলাদেশের অর্থনীতির অত্যধিক নির্ভরতা একটি বড় দুর্বলতা। গার্মেন্টস, কৃষি ও খুচরা ব্যবসার মতো খাতে অটোমেশন সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব ফেলবে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে চাকরি হারানো ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনে কয়েকটি মূল নীতি সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমত, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনে STEM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান কর্মীদের জন্য পুনরায় দক্ষতা অর্জনের (reskilling) বড় পরিসরে কর্মসূচি চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, AI ও অটোমেশন-বান্ধব শিল্পনীতি প্রণয়ন করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদনের বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরে কাজ করলেও তাদের অধিকাংশই প্রাথমিক স্তরের কাজে নিয়োজিত। অ্যাডভান্সড AI টুলস ও মেশিন লার্নিংয়ের ব্যবহার এখনো সীমিত। উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের এখনই সক্রিয় হতে হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কাঠামোগত রূপান্তরের (structural transition) জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। শুধু চাকরি সৃষ্টি নয়, মানসম্পন্ন ও টেকসই চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার, বেসরকারি খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
CPD-র এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের জন্য একটি জাগরণের ঘণ্টা। অটোমেশন ও AI-র চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখনই প্রস্তুতি না নিলে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত নীতি বাস্তবায়ন ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...