AI-তে ভরসা বাড়ছে, বাড়ছে শিক্ষার্থীর মানসিক ক্লান্তি ও চাপ
সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নাল PsyPost-এর নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে AI-র অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বার্নআউট বা মানসিক ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, AI-কে সহায়ক হিসেবে না দেখে বিকল্প ভাবলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও শেখার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নাল PsyPost-এর নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে AI-র অতিরিক্ত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বার্নআউট বা মানসিক ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, AI-কে সহায়ক হিসেবে না দেখে বিকল্প ভাবলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস ও শেখার আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-র ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও এর অতিরিক্ত নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। মনোবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট PsyPost-এর এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, AI-র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল শিক্ষার্থীরা অন্যদের তুলনায় বেশি মানসিক চাপ ও বার্নআউটে ভুগছে। গবেষণাটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা নিয়ে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, AI যখন শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্পূর্ণ কাজ করে দেয়, তখন শিক্ষার্থী নিজের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পায় না। এই অভ্যাস ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং শেখার প্রতি আগ্রহ নষ্ট করে দেয়। ফলে পড়াশোনার চাপ আরও বেড়ে যায় এবং একসময় তা দীর্ঘমেয়াদী মানসিক ক্লান্তিতে রূপ নেয়।
গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা নিয়মিত ChatGPT বা অন্যান্য AI টুল ব্যবহার করে তাদের মধ্যে 40 শতাংশের বেশি উচ্চমাত্রার বার্নআউটের লক্ষণ দেখা গেছে। অন্যদিকে যারা AI ব্যবহার করে শুধুমাত্র গাইড বা সহায়ক হিসেবে, তাদের মধ্যে এই হার অনেক কম। গবেষকরা বলছেন, AI ব্যবহারের ধরনই এখানে মূল ভূমিকা পালন করছে।
গবেষণাপত্রটি বলছে, AI-কে যদি একজন শিক্ষক বা গাইডের মতো ব্যবহার করা হয় তাহলে শিক্ষার্থী উপকৃত হয়। কিন্তু AI-কে নিজের বুদ্ধির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীর মস্তিষ্ক নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। এই নিষ্ক্রিয়তা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলগুলোতে এখন AI টুলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সার ও শিক্ষার্থীরা ChatGPT, Grammarly বা অন্যান্য AI টুল ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা না থাকায় অনেকেই AI-র ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এখনই উদ্যোগ নেওয়া উচিত। শিক্ষার্থীদের শেখানো উচিত কীভাবে AI-কে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতে হয়, বিকল্প হিসেবে নয়। একইসঙ্গে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। বাচ্চারা AI ব্যবহার করে বাড়ির কাজ করছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
গবেষণার শেষ অংশে গবেষকরা বলছেন, AI প্রযুক্তি থামিয়ে দেওয়ার কোনো উপায় নেই। বরং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে এই প্রযুক্তির সুবিধা নেওয়ার উপায় বের করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সবাইকে মিলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি তৈরি করতে হবে। তবেই AI সত্যিকারের শিক্ষামিত্র হতে পারবে, মানসিক চাপের কারণ নয়।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...