AI শেয়ারবাজারে বুদবুদের আশঙ্কা, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল BNP প্যারিবা
BNP প্যারিবা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক সোফি হুইন সতর্ক করেছেন যে AI শেয়ারবাজারে বুদবুদ তৈরি হতে পারে। টোকেন রেশনিং এবং সরবরাহ সংকটকে তিনি প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
BNP প্যারিবা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের বিশ্লেষক সোফি হুইন সতর্ক করেছেন যে AI শেয়ারবাজারে বুদবুদ তৈরি হতে পারে। টোকেন রেশনিং এবং সরবরাহ সংকটকে তিনি প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও বাজারে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান BNP প্যারিবা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের একজন শীর্ষ বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI খাতে একটি বুদবুদ তৈরি হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ক্রস অ্যাসেট স্ট্র্যাটেজিস্ট সোফি হুইন ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন যে AI খাতে টোকেনের চাহিদা এতটাই বেড়ে গেছে যে সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে।
হুইন বলেছেন, আমি এখন টোকেন রেশনিংয়ের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। তিনি জানিয়েছেন, এখানে সেখানে নানা ঘটনা দেখা যাচ্ছে যে আমরা এত বেশি টোকেন ব্যবহার করছি যে পর্যাপ্ত টোকেন থাকবে না। টোকেন হলো AI মডেল যেমন ChatGPT বা অন্যান্য লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় একক। প্রতিটি API কল বা অনুরোধের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক টোকেন খরচ হয়।
হুইনের মতে, AI কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাজারে একটি বুদবুদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা AI খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে অত্যধিক আশাবাদী হয়ে পড়েছেন। এই অতিরিক্ত আশাবাদের কারণেই বুদবুদ তৈরি হতে পারে। তবে তিনি এটিকে কেবল দেখার মতো একটি বিষয় বলে অভিহিত করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতও বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন এই বিশ্লেষক। তিনি বলেছেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এই অনিশ্চয়তা AI খাতসহ অন্যান্য প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাতের ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য এই খবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বহু ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ AI টুল যেমন ChatGPT, Midjourney এবং অন্যান্য API ব্যবহার করে কাজ করেন। যদি টোকেনের দাম বেড়ে যায় বা সরবরাহ সীমিত হয়, তাহলে তাদের কাজের খরচ বেড়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে AI নির্ভর ব্যবসাগুলোর মুনাফাও কমতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান এখন AI মডেল ব্যবহার করে নানা প্রকল্পে কাজ করছে। টোকেন সংকট হলে তাদের গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে যারা বিনামূল্যের বা সীমিত টোকেনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ভবিষ্যতে AI খাতের বিকাশ নির্ভর করবে টোকেনের সরবরাহ এবং দামের স্থিতিশীলতার ওপর। বিনিয়োগকারীদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত এবং বুদবুদ ফেটে গেলে কী হতে পারে তা বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা উচিত। বাংলাদেশের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও উচিত এখন থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Bloomberg Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...