AI সহায়তায় স্তন ক্যান্সার শনাক্তে রেডিওলজিস্টদের নির্ভুলতা বাড়ল ৯ গবেষণায়
একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আল্ট্রাসাউন্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সিদ্ধান্ত-সহায়তা ব্যবহার করলে স্তনের সিস্টিক ক্ষতের সৌম্য ও ম্যালিগন্যান্ট শ্রেণিবিন্যাসে রেডিওলজিস্টদের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। CancerNetwork-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ৯ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন এবং AI-এর সাহায্যে তাদের কর্মক্ষমতার তুলনা করা হয়।
একটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আল্ট্রাসাউন্ডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সিদ্ধান্ত-সহায়তা ব্যবহার করলে স্তনের সিস্টিক ক্ষতের সৌম্য ও ম্যালিগন্যান্ট শ্রেণিবিন্যাসে রেডিওলজিস্টদের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। CancerNetwork-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ৯ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেন এবং AI-এর সাহায্যে তাদের কর্মক্ষমতার তুলনা করা হয়।
স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সিস্টিক ক্ষত (তরল ভর্তি থলি) সৌম্য না ম্যালিগন্যান্ট তা নির্ধারণ করা কখনো কখনো জটিল হয়ে ওঠে। এই জটিলতা কাটাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক একটি সিদ্ধান্ত-সহায়তা সিস্টেমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেছে একটি নতুন গবেষণা।
CancerNetwork-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় ৯ জন রেডিওলজিস্ট অংশগ্রহণ করেন। তারা প্রথমে AI-এর কোনো সহায়তা ছাড়াই আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজ দেখে ক্ষতগুলোর প্রকৃতি নির্ণয় করেন। এরপর একই ইমেজ AI-এর সিদ্ধান্ত-সহায়তা নিয়ে পুনরায় মূল্যায়ন করেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, AI-এর সাহায্যে রেডিওলজিস্টদের নির্ণয়ের নির্ভুলতা এবং আত্মবিশ্বাস উভয়ই বেড়েছে। বিশেষ করে জটিল ও অস্পষ্ট ক্ষত চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে AI একটি কার্যকর দ্বিতীয় মতামত হিসেবে কাজ করেছে।
এই গবেষণার প্রযুক্তিগত দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AI মডেলটিকে হাজার হাজার আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে যাতে এটি সিস্টিক ক্ষতের সূক্ষ্ম বৈশিষ্ট্য যেমন প্রাচীরের পুরুত্ব, অভ্যন্তরীণ প্রতিধ্বনি এবং ক্যালসিফিকেশন শনাক্ত করতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে রেডিওলজিস্টরা শুধুমাত্র নিজেদের অভিজ্ঞতা ও চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করেন। AI সেই অভিজ্ঞতাকে ডেটা-চালিত বিশ্লেষণের মাধ্যমে শক্তিশালী করে। গবেষকদের মতে, এই সিস্টেমটি বিশেষ করে তরুণ বা কম অভিজ্ঞ রেডিওলজিস্টদের জন্য একটি মূল্যবান হাতিয়ার হতে পারে, কারণ এটি তাদের দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং সময়মতো সঠিক নির্ণয়ের অভাবে অনেকেরই জীবনহানি ঘটে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অভিজ্ঞ রেডিওলজিস্টের অভাব রয়েছে। এ ধরনের AI-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত-সহায়তা সিস্টেম বাংলাদেশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সহজেই সংযুক্ত করা যেতে পারে। এটি শুধু রোগ নির্ণয়ের নির্ভুলতাই বাড়াবে না বরং অপ্রয়োজনীয় বায়োপসি ও অস্ত্রোপচারের হারও কমাবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগের সঙ্গে এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের AI সিস্টেম আরও উন্নত হয়ে রিয়েল-টাইম ইমেজ বিশ্লেষণ এবং রোগীর পূর্ব ইতিহাসের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিতে সক্ষম হবে। গবেষণাটি প্রমাণ করে যে AI চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপন না করে তাদের সহায়ক হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি রেডিওলজি বিশেষজ্ঞদের আরও জটিল ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করার সুযোগ দেবে। প্রযুক্তির এই অগ্রগতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশের ক্যান্সার রোগীদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...