AI সার্চে আপনার সাইট কি দেখা যাচ্ছে? ৫ হাজার পরীক্ষায় বড় চমক
77 দিন ধরে ChatGPT, Gemini ও DuckDuckGo-তে 5,051টি পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, AI সার্চ ইঞ্জিনগুলোর সাইট উদ্ধৃতির ধরণে বিশাল পার্থক্য। তিনটি ইঞ্জিনই একই প্রশ্নে প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইট উদ্ধৃত করে। এই ফলাফল B2B কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
77 দিন ধরে ChatGPT, Gemini ও DuckDuckGo-তে 5,051টি পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, AI সার্চ ইঞ্জিনগুলোর সাইট উদ্ধৃতির ধরণে বিশাল পার্থক্য। তিনটি ইঞ্জিনই একই প্রশ্নে প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইট উদ্ধৃত করে। এই ফলাফল B2B কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
AI সার্চ ইঞ্জিনগুলো কোন ওয়েবসাইটকে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত করে, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরীক্ষা চালিয়েছে একটি গবেষণা দল। তারা 19 মে 2026 থেকে পরপর 77 দিন ধরে ChatGPT, Gemini এবং DuckDuckGo-তে মোট 5,051টি স্বয়ংক্রিয় পোল পরিচালনা করেছে। এই পরীক্ষায় তারা তাদের নিজস্ব নিশের 68টি বাস্তব ক্রেতার প্রশ্ন ব্যবহার করেছে এবং প্রতিবারই লগ করেছে তাদের ডোমেইনটি উদ্ধৃত হয়েছে কিনা।
এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল AI সার্চে সাইট উদ্ধৃতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা, কারণ বেশিরভাগ পরামর্শই লেখা হয় এমন লোকদের দ্বারা যারা কখনো প্রকৃত উদ্ধৃতি পরিমাপ করেননি। ফলাফলগুলো তিনটি ইঞ্জিনের মধ্যে উদ্ধৃতি প্রদানের প্রবণতা, উদ্ধৃতি টিকে থাকার হার এবং পারস্পরিক সম্মতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের পার্থক্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্যগুলো এখন প্রকাশ করা হয়েছে, যা ডিজিটাল মার্কেটার এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার সবচেয়ে বড় ফলাফল হলো, তিনটি ইঞ্জিনই একই প্রশ্নে খুব কমই একই ওয়েবসাইট উদ্ধৃত করেছে। অর্থাৎ একটি প্রশ্নের উত্তরে ChatGPT যে সাইটটি দেখায়, Gemini বা DuckDuckGo সেটি নাও দেখাতে পারে। এই অমিলের হার এতটাই বেশি যে, কোনো একটি নির্দিষ্ট ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজ করা কৌশল অন্য ইঞ্জিনে কাজ করবে না। গবেষকরা দেখেছেন, কনটেন্ট তৈরি করার সময় শুধুমাত্র একটি ইঞ্জিনকে টার্গেট করা ভুল পদ্ধতি হতে পারে।
উদ্ধৃতি টিকে থাকার হার নিয়েও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। একটি সাইট একবার উদ্ধৃত হওয়ার পর পরবর্তী পোলগুলোতে সেটি কতবার টিকে থাকে, তা পরিমাপ করা হয়েছে। দেখা গেছে, কিছু সাইট একবার উদ্ধৃত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধৃত হতে থাকে, আবার অনেক সাইট পরের পোলেই বাদ পড়ে যায়। এই পরিবর্তনশীলতা ইঙ্গিত দেয় যে AI সার্চ ইঞ্জিনগুলোর অ্যালগরিদম এখনো অনেক অস্থির এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল।
বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং ডিজিটাল মার্কেটারদের জন্য এই গবেষণার ফলাফল অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। যারা লোকাল SEO বা কনটেন্ট মার্কেটিং করেন, তাদের জন্য এখন স্পষ্ট যে AI সার্চে দৃশ্যমানতা পেতে হলে একাধিক ইঞ্জিনের জন্য আলাদা কৌশল তৈরি করতে হবে। শুধু Google-এর জন্য অপটিমাইজ করলেই চলবে না, কারণ AI সার্চের যুক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন। নতুন এই পরিস্থিতিতে মানসম্মত, তথ্যবহুল এবং নির্ভরযোগ্য কনটেন্ট তৈরি করাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
গবেষকরা বলছেন, এই পরীক্ষা তারা তাদের নিজস্ব নিশে চালিয়েছেন, তাই ফলাফল সব খাতে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবে পদ্ধতিটি যে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব খাতে প্রয়োগ করতে পারে। ভবিষ্যতে তারা আরও বড় পরিসরে এবং ভিন্ন ভিন্ন সেক্টরে এই পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। ততদিন পর্যন্ত B2B প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সবচেয়ে ভালো কৌশল হলো, নিয়মিত কনটেন্ট আপডেট করা এবং AI সার্চের পরিবর্তনশীল আচরণের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...