AI প্রশ্নের উত্তর দিতে এখন ৩ গুণ কম শক্তি লাগে, পরিবেশ বাঁচবে
প্রতি কুয়েরিতে AI-এর শক্তি ও পানি ব্যবহার 2024 সালের তুলনায় অনেক কমেছে। Google, OpenAI ও Mistral-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পুরনো উদ্বেগের ভিত্তি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক বর্তমান বাস্তবতা কী।
প্রতি কুয়েরিতে AI-এর শক্তি ও পানি ব্যবহার 2024 সালের তুলনায় অনেক কমেছে। Google, OpenAI ও Mistral-এর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পুরনো উদ্বেগের ভিত্তি এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক বর্তমান বাস্তবতা কী।
AI কি সত্যিই পরিবেশের জন্য ততটা ক্ষতিকর যতটা বলা হচ্ছে? নতুন তথ্য বলছে, উত্তরটি আগের ধারণার চেয়ে ভিন্ন। 2024 সালে প্রতি কুয়েরিতে AI-এর শক্তি ও পানি ব্যবহারের পরিমাণ এক ধাপ (an order of magnitude) কমে গেছে। Google, OpenAI এবং Mistral-এর নিজস্ব তথ্য প্রকাশের ফলে 2023 সালের অনুমানগুলো এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে AI-এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন। 2023 সালে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছিল, একটি ChatGPT-এর মতো মডেলের একটি কুয়েরি উত্তর দিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ খরচ করে। কিন্তু সেই হিসাবগুলো ছিল তৃতীয় পক্ষের অনুমান, যা বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি।
এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের ডেটা সেন্টারের প্রকৃত ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করতে শুরু করেছে। Google জানিয়েছে, তাদের AI মডেলের প্রতি কুয়েরির শক্তি খরচ 2023 সালের তুলনায় 10 গুণ কমেছে। OpenAI এবং Mistral-ও একই ধরনের তথ্য দিয়েছে। এর কারণ হলো নতুন হার্ডওয়্যার, আরও দক্ষ অ্যালগরিদম এবং অপ্টিমাইজড ডেটা সেন্টার ব্যবস্থাপনা।
এই পরিবর্তনের অর্থ কী? 2024 সালের আগে AI-এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তার অনেকটাই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হচ্ছে। তবে এর মানে এই নয় যে AI-এর কোনো পরিবেশগত প্রভাব নেই। বরং, প্রভাব আগের ধারণার চেয়ে অনেক কম এবং দ্রুত কমছে। বিশেষ করে, প্রতি কুয়েরির পানি ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা শুষ্ক অঞ্চলের ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য একটি বড় খবর।
বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এই তথ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে AI-ভিত্তিক সেবা ও অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা শুরু হয়েছে। অনেক ফ্রিল্যান্সার আপওয়ার্ক বা ফাইবারে AI টুল ব্যবহার করছেন। নতুন তথ্য বলছে, এই টুল ব্যবহারের পরিবেশগত খরচ আগের ধারণার চেয়ে কম। ফলে নৈতিক দ্বিধা না করেই তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে আরও দক্ষ মডেল ও সবুজ শক্তি ব্যবহারের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
ভবিষ্যতে AI-এর পরিবেশগত প্রভাব আরও কমবে বলে আশা করা যায়। কোম্পানিগুলো কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের পথে কাজ করছে। নতুন গবেষণা বলছে, 2027 সালের মধ্যে AI-এর শক্তি দক্ষতা আরও 50 শতাংশ বাড়তে পারে। তাই AI-কে পরিবেশের শত্রু না ভেবে, বরং একটি ক্রমবর্ধমান সবুজ প্রযুক্তি হিসেবে দেখা উচিত। তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণই আমাদের সঠিক পথ দেখাবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...