AI প্রশিক্ষণে সংকট: NYT, CNN-সহ বড় প্রকাশকরা এখন ক্রলার ব্লক করছে
নিউ ইয়র্ক টাইমস, CNN এবং ABC-সহ বড় প্রকাশকরা এখন AI ক্রলারদের ব্লক করছে। এই পদক্ষেপ AI কোম্পানিগুলোর জন্য উচ্চমানের সংবাদ উপাত্ত পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস, CNN এবং ABC-সহ বড় প্রকাশকরা এখন AI ক্রলারদের ব্লক করছে। এই পদক্ষেপ AI কোম্পানিগুলোর জন্য উচ্চমানের সংবাদ উপাত্ত পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস, CNN এবং ABC-সহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশকরা এখন AI ক্রলারদের (AI কোম্পানিগুলোর স্বয়ংক্রিয় তথ্য সংগ্রহকারী সফটওয়্যার) নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। OpenAI-এর GPTBot-সহ বিভিন্ন AI ক্রলারকে ব্লক করার এই সিদ্ধান্ত প্রকাশকদের তাদের কনটেন্টের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ দিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে AI কোম্পানিগুলোর জন্য মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারযোগ্য উচ্চমানের সংবাদ উপাত্ত সংগ্রহ করা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই ব্লকading শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রবণতা। বিশ্বের স্বীকৃত সংবাদমাধ্যমগুলো একে অপরের থেকে আলাদাভাবে হলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ফলে প্রকাশকরা ঠিক করতে পারছে যে, তাদের কাজ AI সিস্টেমে কীভাবে এবং কোন শর্তে ব্যবহার হবে। এই নিয়ন্ত্রণ আগে প্রকাশকদের হাতে ছিল না, কারণ AI ক্রলাররা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিত।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ AI প্রশিক্ষণ ডেটার বাজারকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। আগে প্রকাশকদের কনটেন্ট প্রায় বিনামূল্যে AI প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতো। এখন প্রকাশকরা চাইলে তাদের কনটেন্টের জন্য লাইসেন্সিং ফি দাবি করতে পারে। নিউ ইয়র্ক টাইমস ইতিমধ্যে OpenAI-এর বিরুদ্ধে কপিরাইট লঙ্ঘনের মামলা করেছে, যা এই নতুন অর্থনীতির একটি বড় উদাহরণ। এতে AI কোম্পানিগুলোর জন্য খরচ বাড়লেও, প্রকাশকরা নতুন আয়ের উৎস পাচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে AI কোম্পানিগুলো এখন বিকল্প উপায় খুঁজছে। অনেক কোম্পানি প্রকাশকদের সাথে সরাসরি চুক্তি করছে। আবার কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়া বা ফোরামের মতো অন্যান্য উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবাদ মাধ্যমের মতো কাঠামোবদ্ধ, নির্ভরযোগ্য এবং সময়োপযোগী তথ্য অন্য কোথাও পাওয়া খুব কঠিন। তাই প্রশিক্ষণ ডেটার মান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে AI প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
বাংলাদেশের ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং AI গবেষকদের জন্য এই খবর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বড় প্রকাশকদের কনটেন্ট যদি AI প্রশিক্ষণ থেকে বাদ পড়ে, তাহলে বিশ্বব্যাপী AI মডেলগুলোর তথ্যভিত্তিক নির্ভুলতা কমতে পারে। যেসব স্টার্টআপ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে ওয়েব স্ক্র্যাপিংয়ের (ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া) ওপর নির্ভর করে নিজস্ব মডেল তৈরি করছে, তাদের জন্য এই বাধা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলোর জন্যও এটি একটি সুযোগ। তারা চাইলে নিজেদের কনটেন্টের জন্য লাইসেন্সিং মডেল তৈরি করতে পারে।
যেসব প্রতিষ্ঠান AI ব্যবহার করে সংবাদ তৈরি বা বিশ্লেষণ করে, তাদের এখন কপিরাইট আইন এবং ডেটা লাইসেন্সিংয়ের নতুন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। ভবিষ্যতে AI প্রশিক্ষণ ডেটার জন্য প্রকাশকদের সাথে চুক্তি করা বাধ্যতামূলক হয়ে উঠতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে AI প্রশিক্ষণের খরচ বাড়লেও, এর ফলে সৃষ্টি হবে আরও নৈতিক এবং টেকসই একটি ইকোসিস্টেম।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...