AI প্রশিক্ষণে কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে, বাংলাদেশের জলবায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিপুল শক্তি খরচ হয় এবং কার্বন নিঃসরণ বাড়ে। নতুন গবেষণা বলছে, AI পরিকাঠামোর পরিবেশগত খরচ দ্রুত বাড়ছে যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উদ্বেগের কারণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিপুল শক্তি খরচ হয় এবং কার্বন নিঃসরণ বাড়ে। নতুন গবেষণা বলছে, AI পরিকাঠামোর পরিবেশগত খরচ দ্রুত বাড়ছে যা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উদ্বেগের কারণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। rosalux.nyc-এর এক নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল কম্পিউটেশনাল শক্তি কার্বন নিঃসরণকে ত্বরান্বিত করছে। গবেষণাটি AI-এর পরিবেশ ও জলবায়ু খরচ নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, GPT-4 বা Gemini-এর মতো বড় ভাষার মডেল প্রশিক্ষণ দিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার GPU চালাতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার বেশিরভাগই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে। ফলে প্রতিটি বড় AI মডেল তৈরি করতে যে পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়, তা একটি গাড়ির সারাজীবনের নিঃসরণের সমান হতে পারে।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, AI পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টারগুলো বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (IEA) জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারের শক্তি খরচ আগের চেয়ে ৩ গুণ বেড়েছে। এই ডেটা সেন্টারগুলোকে ঠান্ডা রাখতে বিশাল পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়, যা স্থানীয় পানির সংকট আরও বাড়িয়ে দেয়।
AI মডেলের আকার যত বাড়ছে, ততই তার পরিবেশগত প্রভাব বাড়ছে। আগের চেয়ে বড় মডেল তৈরি করতে ১০ গুণ বেশি কম্পিউটেশনাল শক্তি প্রয়োজন। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান গতিতে AI উন্নয়ন চলতে থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে AI সেক্টরের কার্বন নিঃসরণ এয়ারলাইন শিল্পকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশটিতে ফ্রিল্যান্সার, ডেভেলপার ও শিক্ষার্থীরা দিন দিন বেশি করে AI টুল ব্যবহার করছে। তবে তাদের বেশিরভাগই জানেন না যে প্রতিটি ChatGPT কুয়েরি বা API কলের পেছনে পরিবেশগত খরচ রয়েছে। বাংলাদেশে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু সেগুলো নবায়নযোগ্য শক্তিতে চালানোর পরিকল্পনা এখনও স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের এখনই সচেতন হওয়া দরকার। AI-এর সুবিধা নিতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি যাতে না হয়, সেজন্য সবুজ কম্পিউটিং ও শক্তি সাশ্রয়ী মডেল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া উচিত। স্থানীয় ডেটা সেন্টারগুলো সোলার বা বায়ু শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
AI-এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এর টেকসই উন্নয়নের ওপর। গবেষণায় বলা হয়েছে, ছোট ও দক্ষ মডেল তৈরি করলে শক্তি খরচ অনেক কমানো সম্ভব। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও নিউরোমরফিক চিপের মতো নতুন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে AI-এর পরিবেশগত বোঝা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এখনই সঠিক পদক্ষেপ না নিলে AI-এর অগ্রযাত্রা জলবায়ু সংকটকে আরও গভীর করবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...