AI ও রোবটের জাদুতে এনজাইম তৈরি এখন ১০ গুণ দ্রুত, লাভবান হবে শিল্প
বিজ্ঞানীরা এনজাইম ডিজাইন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় AI, সিন্থেটিক বায়োলজি ও রোবোটিক্সকে একীভূত করেছেন। এই সমন্বিত পদ্ধতি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এনজাইমের ব্যবহারকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা এনজাইম ডিজাইন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় AI, সিন্থেটিক বায়োলজি ও রোবোটিক্সকে একীভূত করেছেন। এই সমন্বিত পদ্ধতি শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এনজাইমের ব্যবহারকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনজাইম প্রকৌশলের জগতে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সিন্থেটিক বায়োলজি এবং রোবোটিক্সের সমন্বয়ে বিজ্ঞানীরা এনজাইম ডিজাইন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়াকে অভূতপূর্ব গতি দিয়েছেন। GNews AI Global-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এই আন্তঃশৃঙ্খলা পদ্ধতি এনজাইম তৈরির সময় ও খরচ উভয়ই কমিয়ে দেবে। এর ফলে শিল্প ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এনজাইমের ব্যবহার আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। বিশেষ করে সবুজ রসায়ন ও জৈব-উৎপাদনে এই প্রযুক্তি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
গবেষকরা AI ব্যবহার করে প্রথমে লক্ষ্যযুক্ত এনজাইমের গঠন ও কার্যকারিতা ভবিষ্যদ্বাণী করেন। এরপর সিন্থেটিক বায়োলজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই এনজাইমের জিনগত কোড তৈরি করা হয়। সবশেষে রোবোটিক্স স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাজারো নমুনা তৈরি ও পরীক্ষা করে। এই প্রক্রিয়ায় মানুষের হস্তক্ষেপ কমে যায় এবং ভুলের সম্ভাবনা অনেক কমে আসে।
আগের পদ্ধতিতে একটি এনজাইম তৈরি ও পরীক্ষা করতে কয়েক মাস লেগে যেত। এখন AI মডেল কয়েক মিনিটের মধ্যে সম্ভাব্য সেরা নকশা বের করে দিতে পারে। রোবোটিক সিস্টেমগুলো একই সময়ে শত শত নমুনা পরীক্ষা করতে পারে। এর ফলে গবেষণার গতি বেড়েছে কয়েক গুণ।
বাংলাদেশের জৈবপ্রযুক্তি ও ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্য এই খবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলো এই সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজেদের পণ্য উন্নয়ন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষি খাতে ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য এনজাইম তৈরি বা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণে বিশেষ এনজাইম ডিজাইন করা সম্ভব।
বিশ্বব্যাপী এনজাইম বাজার ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি বাংলাদেশকে সেই বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ালে এই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পদ্ধতি শুধু এনজাইম নয়, অন্যান্য জৈব-অণু যেমন অ্যান্টিবডি ও ভ্যাকসিন তৈরিতেও ব্যবহার করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি পরিবেশবান্ধব শিল্প উৎপাদনের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...