AI ও কোয়ান্টাম রসায়নে জ্বালানি কোষের নতুন অনুঘটক, দক্ষতা বাড়বে ৩ গুণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম রসায়ন ব্যবহার করে গবেষকরা জ্বালানি কোষের জন্য নতুন ধরনের দ্বৈত-নিয়ন্ত্রিত অনুঘটক তৈরি করেছেন। এই অনুঘটক জ্বালানি কোষের দক্ষতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। গবেষণাটি EurekAlert!-এ প্রকাশিত হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম রসায়ন ব্যবহার করে গবেষকরা জ্বালানি কোষের জন্য নতুন ধরনের দ্বৈত-নিয়ন্ত্রিত অনুঘটক তৈরি করেছেন। এই অনুঘটক জ্বালানি কোষের দক্ষতা ও স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। গবেষণাটি EurekAlert!-এ প্রকাশিত হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম রসায়নের সমন্বয়ে গবেষকরা জ্বালানি কোষের জন্য পরবর্তী প্রজন্মের দ্বৈত-নিয়ন্ত্রিত অনুঘটক তৈরি করেছেন। EurekAlert!-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, AI মডেল ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের হিসাব ব্যবহার করে অনুঘটকের গঠন ও কার্যকারিতা আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নকশা করা সম্ভব হয়েছে।
জ্বালানি কোষ হল এমন একটি প্রযুক্তি যা হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় অনুঘটকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ব্যবহৃত অনুঘটকগুলি ব্যয়বহুল ও অস্থিতিশীল। নতুন দ্বৈত-নিয়ন্ত্রিত অনুঘটক এই সমস্যার সমাধান করতে পারে।
গবেষকরা AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করে লক্ষ লক্ষ সম্ভাব্য উপাদানের মধ্যে থেকে সেরা কম্বিনেশন খুঁজে বের করেছেন। এরপর কোয়ান্টাম রসায়নের সিমুলেশন দিয়ে সেই উপাদানগুলোর পারমাণবিক আচরণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অনুঘটকের কার্যক্ষমতা পূর্বাভাস দিতে এবং সেটিকে অপ্টিমাইজ করতে সাহায্য করেছে।
দ্বৈত-নিয়ন্ত্রিত অনুঘটক বলতে বোঝায় এমন একটি উপাদান যার দুটি ভিন্ন সক্রিয় স্থান রয়েছে। একটি স্থান অক্সিজেন রিডাকশন বিক্রিয়ায় এবং অন্যটি হাইড্রোজেন অক্সিডেশন বিক্রিয়ায় সাহায্য করে। এই দ্বৈত কার্যকারিতা জ্বালানি কোষের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ায়।
আগের প্রযুক্তির তুলনায় এই নতুন অনুঘটক ৩ গুণ বেশি স্থিতিশীল এবং ২ গুণ বেশি কার্যকর। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি প্ল্যাটিনামের মতো ব্যয়বহুল উপাদানের বিকল্প হতে পারে। ফলে জ্বালানি কোষের উৎপাদন খরচ অনেক কমে যাবে।
বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশে জ্বালানি সংকট ও পরিবেশ দূষণ বড় সমস্যা। জ্বালানি কোষ একটি পরিষ্কার ও টেকসই শক্তির উৎস হতে পারে। নতুন এই অনুঘটক বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিপ্লব ঘটাতে সক্ষম। স্থানীয় গবেষক ও উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি কোষ তৈরি করতে পারেন।
ভবিষ্যতে AI ও কোয়ান্টাম রসায়নের এই সমন্বয় শুধু জ্বালানি কোষ নয়, অন্যান্য শক্তি প্রযুক্তির উন্নয়নেও ব্যবহার করা যাবে। গবেষকরা আশা করছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এই অনুঘটক ব্যবহার উপযোগী হবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি হবে একটি বড় সুযোগ।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...