এআই শক্তি খরচে বিশ্বে পানির চাহিদা বাড়িয়ে দেবে ১৩০ কোটি মানুষের সমান: জাতিসংঘ
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এআই প্রযুক্তির জন্য ডাটা সেন্টারের পানি খরচ ২০৩০ সালে ১৩০ কোটি মানুষের ব্যবহারের সমান হবে। বাংলাদেশের জন্যও এটি বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, এআই প্রযুক্তির জন্য ডাটা সেন্টারের পানি খরচ ২০৩০ সালে ১৩০ কোটি মানুষের ব্যবহারের সমান হবে। বাংলাদেশের জন্যও এটি বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।
জাতিসংঘের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের ফলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ডাটা সেন্টারগুলোর পানি খরচ বিশ্বের ১৩০ কোটি মানুষের বার্ষিক পানি ব্যবহারের সমান হতে পারে। এই প্রতিবেদনটি এআই খাতের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয়, যা শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৭ সালের মধ্যে এআই সম্পর্কিত ডাটা সেন্টারগুলোর পানি খরচ ৪.২ থেকে ৬.৬ বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছাতে পারে। এটি যুক্তরাজ্যের মতো একটি দেশের মোট বার্ষিক পানি ব্যবহারের অর্ধেকেরও বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই চ্যাটবট যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গড়ে ৫০০ মিলিলিটার পানি প্রয়োজন হয়, যা একটি ছোট বোতলের সমান।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ফ্রিল্যান্সার, ডেভেলপার এবং শিক্ষার্থীরা এআই টুল ব্যবহার করছেন দ্রুত গতিতে। কিন্তু পানির সংকটে থাকা বাংলাদেশে এআই-এর এই পানি চাহিদা পরিবেশের ওপর চাপ বাড়াবে। স্থানীয় ডাটা সেন্টারগুলো যদি এআই কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তাদেরও শীতলীকরণ ব্যবস্থায় পানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি গ্রহণ করতে হবে।
জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন এআই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। তারা সুপারিশ করেছে যে, ডাটা সেন্টারগুলোতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানি ব্যবহার এবং আরও দক্ষ শীতলীকরণ প্রযুক্তি চালু করা উচিত। এছাড়া এআই মডেল তৈরির সময় পানি ব্যবহারের হিসাব রাখা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে পানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে। মাইক্রোসফট ও গুগল ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের ডাটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের তুলনায় বেশি পানি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশের উদীয়মান এআই খাতের জন্যও এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি, যাতে প্রযুক্তির অগ্রগতি পরিবেশের ক্ষতি না করে।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Google News BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
