AI কোম্পানির মুনাফা থেকে বছরে ১,০০০ ডলার পেতে পারেন বাংলাদেশিরাও
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একটি বিল প্রস্তাব করেছেন যাতে AI কোম্পানির মুনাফার ৫০ শতাংশ জনগণকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগে প্রত্যেক নাগরিক বছরে ন্যূনতম ১,০০০ ডলার পাবেন। প্রস্তাবটির মূল যুক্তি হলো AI মানুষের তৈরি ডেটা ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে, তাই এর লাভে জনগণের অংশীদারিত্ব থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একটি বিল প্রস্তাব করেছেন যাতে AI কোম্পানির মুনাফার ৫০ শতাংশ জনগণকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই উদ্যোগে প্রত্যেক নাগরিক বছরে ন্যূনতম ১,০০০ ডলার পাবেন। প্রস্তাবটির মূল যুক্তি হলো AI মানুষের তৈরি ডেটা ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে, তাই এর লাভে জনগণের অংশীদারিত্ব থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একটি যুগান্তকারী বিল প্রস্তাব করেছেন যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) মুনাফা থেকে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে সরাসরি আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল তৈরি করা হবে এবং বড় AI ল্যাবগুলোর ৫০ শতাংশ মালিকানা জনগণের হাতে দেওয়া হবে। এর ফলে প্রত্যেক নাগরিক বছরে কমপক্ষে ১,০০০ ডলার পাবেন এবং AI-র আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পরিমাণ আরও বাড়বে।
এই বিলের মূল যুক্তি অত্যন্ত সরল ও শক্তিশালী। AI মডেলগুলো যেমন ChatGPT মানুষের লেখা, শিল্পকর্ম, কোড এবং কথোপকথন থেকে শিখেছে। কোম্পানিগুলো এই ডেটার কারণেই ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে কেন এই মুনাফার একটি অংশও সেই জনগণের কাছে ফিরে যাচ্ছে না যাদের কাজ দিয়ে AI তৈরি হয়েছে।
Gizmodo-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যান্ডার্সের প্রস্তাবিত তহবিলটি হবে একটি জাতীয় ট্রাস্ট ফান্ড। এই ফান্ডে জমা হবে AI কোম্পানিগুলোর মুনাফার একটি বড় অংশ। বিলটি পাস হলে সরকার বড় AI ল্যাবগুলোর ৫০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেবে এবং সেই শেয়ার থেকে পাওয়া লভ্যাংশ সরাসরি নাগরিকদের মধ্যে বিতরণ করবে।
প্রস্তাবটির পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো AI-র কারণে অনেক চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। লেখক, কোডার, শিল্পী এবং অন্যান্য সৃজনশীল পেশার মানুষরা ইতিমধ্যে AI-র প্রভাব অনুভব করছেন। স্যান্ডার্স মনে করেন এই প্রযুক্তির সুবিধা শুধু কয়েকটি বড় কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত নয়। বরং সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো দরকার।
বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য এই খবর অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের একটি বড় অংশ AI টুল ব্যবহার করে। তারা যদি দেখে যে AI-র মুনাফা ন্যায্যভাবে বিতরণ করা সম্ভব, তাহলে এর প্রভাব বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। স্থানীয় AI স্টার্টআপ এবং ডেভেলপারদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই বিল বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। বড় AI কোম্পানিগুলো সম্ভবত এর বিরোধিতা করবে। তাছাড়া ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠন এবং শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া জটিল। তবুও এই প্রস্তাব AI-র ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক শুরু করেছে যে প্রযুক্তির মুনাফা কাদের হওয়া উচিত।
স্যান্ডার্সের এই উদ্যোগ AI শিল্পের জন্য একটি মাইলফলক হতে পারে। এটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির অগ্রগতি শুধু কোম্পানির মালিকদের নয়, বরং পুরো সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা সম্ভব। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্যও এটি একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হতে পারে যে কীভাবে AI-র সুবিধা ন্যায্যভাবে বিতরণ করা যায়।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Reddit r/artificial
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...