AI খরচ সাশ্রয়ে ব্যর্থ ৪০% কোম্পানি, বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের কী বার্তা
Bain-এর জরিপ বলছে, 951 কোম্পানির মধ্যে প্রায় 40 শতাংশ AI খরচ সাশ্রয়ে মাত্র 10 শতাংশের কম সফল হয়েছে। লক্ষ্য ছিল 11 থেকে 20 শতাংশ সাশ্রয়, কিন্তু মানবিক হস্তক্ষেপ এবং অটোনমাস এজেন্টের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র 7 শতাংশ কোম্পানি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত AI এজেন্ট চালাচ্ছে।
Bain-এর জরিপ বলছে, 951 কোম্পানির মধ্যে প্রায় 40 শতাংশ AI খরচ সাশ্রয়ে মাত্র 10 শতাংশের কম সফল হয়েছে। লক্ষ্য ছিল 11 থেকে 20 শতাংশ সাশ্রয়, কিন্তু মানবিক হস্তক্ষেপ এবং অটোনমাস এজেন্টের অভাব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র 7 শতাংশ কোম্পানি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত AI এজেন্ট চালাচ্ছে।
বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান Bain-এর একটি নতুন জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে খরচ কমানোর যে লক্ষ্য কোম্পানিগুলো নির্ধারণ করেছিল, তা পূরণ করতে পারছে না তারা। এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মানবিক হস্তক্ষেপ এবং স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেমের অভাব।
জরিপে অংশ নেওয়া 951টি কোম্পানির মধ্যে প্রায় 40 শতাংশই AI-এর মাধ্যমে মাত্র 10 শতাংশের কম খরচ সাশ্রয় করতে পেরেছে। অথচ এই কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগই 11 থেকে 20 শতাংশ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। এই ব্যর্থতার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো, কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক মডেল এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেখানে AI সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করবে বলে ধরে নেওয়া হয়। বাস্তবে, মাত্র 7 শতাংশ কোম্পানি সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত AI এজেন্ট চালাচ্ছে।
AI এজেন্ট হলো এমন এক ধরনের সফটওয়্যার যা কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং কাজ করতে পারে, যেমন গ্রাহক সেবা দেওয়া বা ডেটা বিশ্লেষণ করা। Bain-এর জরিপ বলছে, বেশিরভাগ কোম্পানিই তাদের AI সিস্টেমে এখনও মানুষের তত্ত্বাবধান রাখছে। এই মানবিক হস্তক্ষেপ স্বয়ংক্রিয়তার গতি কমিয়ে দিচ্ছে এবং খরচ সাশ্রয়ের লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি করছে।
জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব কোম্পানি AI-এর ওপর বেশি আস্থা রেখে কম মানবিক হস্তক্ষেপ রেখেছে, তারা খরচ সাশ্রয়ে বেশি সফল হয়েছে। অন্যদিকে, যারা AI-কে শুধুমাত্র একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং মূল প্রক্রিয়ায় মানুষের অংশগ্রহণ বজায় রেখেছে, তারা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। Bain-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI-এর পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে হলে কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রক্রিয়া এবং সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই গবেষণার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। দেশের স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো AI ব্যবহার করে খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। তবে Bain-এর জরিপ দেখাচ্ছে, শুধু AI টুল যুক্ত করলেই হবে না, বরং সেই টুলকে স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশি ডেভেলপার এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বার্তা হলো, AI-কে শুধু একটি অটোমেশন টুল না ভেবে একটি স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সিস্টেম হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। অন্যথায়, প্রত্যাশিত খরচ সাশ্রয় অর্জন সম্ভব হবে না।
ভবিষ্যতে AI-এর সাফল্য নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো কত দ্রুত মানবিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেমে রূপান্তরিত হতে পারে, তার ওপর। Bain-এর এই জরিপ AI বাস্তবায়নের পথে একটি বাস্তবসম্মত চিত্র তুলে ধরেছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...