AI এখন ক্যান্সারের তীব্রতা বলবে, জানুন কীভাবে বাংলাদেশের রোগী উপকৃত হবে
গবেষকরা ম্যান্টেল সেল লিম্ফোমার পূর্বাভাস দিতে একটি AI সূচক তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ H&E স্টেইনিং ব্যবহার করে ক্যান্সারের তীব্রতা নির্ণয়ে সাহায্য করবে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
গবেষকরা ম্যান্টেল সেল লিম্ফোমার পূর্বাভাস দিতে একটি AI সূচক তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ H&E স্টেইনিং ব্যবহার করে ক্যান্সারের তীব্রতা নির্ণয়ে সাহায্য করবে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
ক্যান্সার নির্ণয় ও পূর্বাভাসের জগতে যুক্ত হলো এক নতুন মাত্রা। গবেষকরা ম্যান্টেল সেল লিম্ফোমা (MCL) নামের এক ধরনের ক্যান্সারের জন্য একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক পূর্বাভাস সূচক তৈরি করেছেন। এই সূচকটি হেমাটোক্সিলিন এবং ইওসিন (H&E) হিস্টোলজি ব্যবহার করে কাজ করে। এই গবেষণাটি অত্যন্ত সম্মানিত বৈজ্ঞানিক জার্নাল নেচারে প্রকাশিত হয়েছে।
এই AI সূচকের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এটি বিশেষ স্টেইনিং ছাড়াই ক্যান্সারের প্রকৃতি বুঝতে পারে। আগে ম্যান্টেল সেল লিম্ফোমার পূর্বাভাস দিতে জটিল এবং ব্যয়বহুল বিশেষ স্টেইনিং প্রয়োজন হতো। এখন সাধারণ H&E স্টেইনিং দিয়েই AI রোগের তীব্রতা সম্পর্কে ধারণা দিতে সক্ষম। এটি রোগ নির্ণয়ের সময় এবং খরচ উভয়ই কমিয়ে দেবে।
গবেষণাটি কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য একটু সহজ করে বলা যাক। ম্যান্টেল সেল লিম্ফোমা একটি আক্রমণাত্মক ধরনের নন-হজকিন লিম্ফোমা। চিকিৎসকরা সাধারণত টিস্যু বায়োপসি করে H&E দিয়ে স্টেইন করেন এবং মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখেন। কিন্তু মাত্র চোখে দেখে সবসময় রোগের ভবিষ্যৎ গতিপথ বোঝা যায় না। গবেষকরা একটি ডিপ লার্নিং মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলটি হাজার হাজার টিস্যু স্লাইড থেকে শিখেছে। এটি টিস্যুর কোষীয় গঠন এবং প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে রোগীর পূর্বাভাস নির্ধারণ করে।
এই প্রযুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। বাংলাদেশে ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য উন্নত বিশেষ স্টেইনিং সুবিধা সীমিত। অনেক হাসপাতালে শুধুমাত্র সাধারণ H&E স্টেইনিং করানো সম্ভব। এই AI সূচক ব্যবহার করে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা কম খরচে এবং দ্রুত রোগীর অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এটি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। যেমন কোন রোগীর কেমোথেরাপি দরকার এবং কোন রোগীর শুধু পর্যবেক্ষণ করলেই চলবে।
গবেষকরা এই AI মডেলটি তৈরি করতে হাজার হাজার রোগীর ডেটা ব্যবহার করেছেন। তারা মডেলটিকে বিভিন্ন হাসপাতালের ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ফলে মডেলটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্যই কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নেচার জার্নালে প্রকাশিত হওয়ায় এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি। এটি ক্যান্সার গবেষণার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। তারা চান এই AI সূচকটি যেন দ্রুত ক্লিনিকাল ব্যবহারে আসে। তাহলে ক্যান্সার রোগীদের জন্য আরও সঠিক এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...