AI এখন ঘুমের পর্যায় চিনবে মস্তিষ্কের সেন্সর ছাড়াই, জানুন কী লাভ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মস্তিষ্কে কোনো আক্রমণাত্মক সেন্সর ছাড়াই সঠিকভাবে ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই গবেষণা ঘুম পর্যবেক্ষণকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন মস্তিষ্কে কোনো আক্রমণাত্মক সেন্সর ছাড়াই সঠিকভাবে ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই গবেষণা ঘুম পর্যবেক্ষণকে আরও সহজ ও আরামদায়ক করে তুলতে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারে, তাও আবার মস্তিষ্কে কোনো আক্রমণাত্মক সেন্সর না লাগিয়েই। PsyPost-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গবেষণাটি GNews AI Global-এর মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এই অগ্রগতি ঘুম সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় ও পর্যবেক্ষণে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
ঘুমের মান আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বর্তমানে ঘুমের পর্যায় নির্ধারণ করতে গেলে মাথায় ইলেকট্রোড বা সেন্সর লাগিয়ে পলিসমনোগ্রাফি পরীক্ষা করতে হয়। এই পদ্ধতি অস্বস্তিকর এবং অনেক সময় রোগীর স্বাভাবিক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। নতুন এই AI-ভিত্তিক পদ্ধতি সেই বাধা দূর করে ঘুম পর্যবেক্ষণকে আরও সহজলভ্য ও স্বাভাবিক করে তুলবে।
গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বিপুল পরিমাণ ঘুমের তথ্য ব্যবহার করে। এই মডেল হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ও শরীরের নড়াচড়ার মতো বাহ্যিক সংকেত বিশ্লেষণ করে ঘুমের গভীরতা ও পর্যায় নির্ধারণ করতে পারে। প্রচলিত সেন্সর-ভিত্তিক পদ্ধতির তুলনায় এই পদ্ধতি অনেক বেশি আরামদায়ক এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য উপযোগী।
AI মডেলটি ঘুমের চারটি প্রধান পর্যায় সঠিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই পর্যায়গুলো হলো হালকা ঘুম, গভীর ঘুম, REM ঘুম এবং জাগ্রত অবস্থা। গবেষণায় দেখা গেছে, AI-এর নির্ভুলতা প্রচলিত পদ্ধতির কাছাকাছি, যা একে একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশে ঘুমজনিত সমস্যা যেমন ইনসোমনিয়া ও স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু অত্যাধুনিক ঘুম পরীক্ষার সরঞ্জাম ও বিশেষজ্ঞের অভাব রয়েছে। এই AI প্রযুক্তি স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো সাধারণ ডিভাইসে ব্যবহার করা সম্ভব হলে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই নিজের ঘুমের মান পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তারাও এই ক্ষেত্রে নতুন অ্যাপ ও সেবা তৈরি করে ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন।
ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষকরা এখন AI মডেলটিকে আরও ছোট ও দ্রুত করার চেষ্টা করছেন, যাতে এটি স্মার্টফোন বা পরিধানযোগ্য ডিভাইসে সহজে চালানো যায়। ঘুমের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...