AI এখন অর্থনীতির বড় চালিকা শক্তি, বলছে বিশ্বের শীর্ষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান PIMCO
বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান PIMCO-এর শীর্ষ অর্থনীতিবিদ রিচার্ড ক্লারিডা বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে AI অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হবে। তিনি AI-কে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর সম্ভাবনাময় একটি শক্তি হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অর্থায়ন নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান PIMCO-এর শীর্ষ অর্থনীতিবিদ রিচার্ড ক্লারিডা বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে AI অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হবে। তিনি AI-কে মুদ্রাস্ফীতি কমানোর সম্ভাবনাময় একটি শক্তি হিসেবেও চিহ্নিত করেছেন। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের অর্থায়ন নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান PIMCO-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা রিচার্ড ক্লারিডা বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে। সম্প্রতি ব্লুমবার্গ টেলিভিশনের দ্য ক্লোজ অনুষ্ঠানে তিনি এই মতামত প্রকাশ করেন। ক্লারিডা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বোর্ডের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানও ছিলেন।
তার মতে, AI-এর উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষমতা এবং মজুরি কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনার কারণে এটি মুদ্রাস্ফীতি বিরোধী একটি শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। যখন উৎপাদনশীলতা বাড়ে, তখন কম খরচে বেশি পণ্য ও সেবা তৈরি করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, AI যদি কিছু কাজ স্বয়ংক্রিয় করে দেয়, তাহলে মজুরির ওপর চাপ পড়তে পারে। এই দুটি কারণ মিলিয়ে সামগ্রিক মূল্যস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ক্লারিডা AI খাতে বিনিয়োগের অর্থায়ন নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন। AI প্রযুক্তি বিকাশ ও স্থাপনের জন্য বিপুল পরিমাণ মূলধনের প্রয়োজন। এই বিনিয়োগ যদি প্রত্যাশিত মুনাফা না আনে, তাহলে তা আর্থিক বাজার ও অর্থনীতির জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
AI-কে একটি ডিসইনফ্লেশনারী ফোর্স হিসেবে দেখা নতুন কিছু নয়। এর আগে বিভিন্ন বিশ্লেষক বলেছেন, প্রযুক্তি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে পণ্য ও সেবার দাম কমিয়ে দেয়। কিন্তু ক্লারিডার বিশ্লেষণে নতুন সংযোজন হলো এই প্রক্রিয়ার গতি ও মাত্রা। তিনি মনে করেন, AI আগের যেকোনো প্রযুক্তির চেয়ে দ্রুত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের আইটি খাত, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, AI-এর কারণে বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে পারে। একদিকে AI-চালিত টুলস ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে, কিছু প্রচলিত কাজের চাহিদা কমে যেতে পারে। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য AI-সম্পর্কিত দক্ষতা অর্জন এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে, PIMCO-এর শীর্ষ এই অর্থনীতিবিদের মন্তব্য AI-এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে একটি সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। আগামী বছরগুলিতে AI শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, পুরো অর্থনীতির কাঠামো ও মূল্যস্তরকে প্রভাবিত করবে। বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষকে এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Bloomberg Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...