AI দিয়ে ১ বছরে ওষুধ আবিষ্কার, চীনের সাফল্যে বদলে যাবে ফার্মা শিল্প!
চীনের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান Insilico Medicine AI ব্যবহার করে ওষুধ আবিষ্কারের সময় 1 বছরে নামিয়ে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির দ্রুততম প্রোগ্রামে মাত্র 9 মাসে প্রার্থী ওষুধ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।
চীনের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান Insilico Medicine AI ব্যবহার করে ওষুধ আবিষ্কারের সময় 1 বছরে নামিয়ে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির দ্রুততম প্রোগ্রামে মাত্র 9 মাসে প্রার্থী ওষুধ নির্বাচন সম্ভব হয়েছে।
চীনের বায়োটেক প্রতিষ্ঠান Insilico Medicine ঘোষণা করেছে যে, তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ল্যাবরেটরি গবেষণা একত্রিত করে ওষুধ আবিষ্কারের সময় প্রায় 1 বছরে নামিয়ে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালেক্স ঝাভোরনকভ এই তথ্য জানিয়েছেন।
হংকংয়ে তালিকাভুক্ত এই প্রতিষ্ঠানটির দ্রুততম প্রোগ্রামে মাত্র 9 মাসে প্রার্থী ওষুধ নির্বাচন করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণত এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগে প্রায় 13 মাস। এই অগ্রগতি ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা ও উন্নয়নে AI-এর সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
ওষুধ আবিষ্কারের প্রচলিত পদ্ধতিতে একজন প্রার্থী ওষুধ তৈরি করতে 10 থেকে 15 বছর সময় লাগে। Insilico Medicine-এর এই সাফল্য দেখায় যে, AI প্রযুক্তি এই দীর্ঘ সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি AI-চালিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রোগের লক্ষ্য প্রোটিন শনাক্ত করে এবং সম্ভাব্য ওষুধের অণু ডিজাইন করে। এরপর সেগুলো ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।
AI মডেলগুলো বিশাল ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে এমন অণু শনাক্ত করে যা রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রোটিনের সঙ্গে কার্যকরভাবে মিথস্ক্রিয়া করতে পারে। এই প্রক্রিয়া দ্রুততর এবং অনেক কম খরচে সম্ভব হয়। আগের চেয়ে প্রায় 10 গুণ দ্রুত গতিতে কাজটি সম্পন্ন করা যাচ্ছে।
বিশ্বজুড়ে ওষুধ শিল্পে এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। Insilico Medicine-এর এই সাফল্য এক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও জানিয়েছেন, AI-এর সাহায্যে তারা এখন অনেক দ্রুত নতুন ওষুধ বাজারে আনতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবরটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প ওষুধ উৎপাদনে আত্মনির্ভর হলেও নতুন ওষুধ গবেষণায় এখনো পিছিয়ে। AI-চালিত এই পদ্ধতি বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। স্থানীয় গবেষক ও ডেভেলপাররা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ওষুধ আবিষ্কারে কাজ শুরু করতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও এটি একটি সুযোগ। AI ও বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়লে দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত আরও শক্তিশালী হবে।
AI ব্যবহার করে ওষুধ আবিষ্কারের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। Insilico Medicine-এর এই অর্জন ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ওষুধ আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: AI News
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...