AI ডেটা সেন্টারে ২২৩ মিলিয়ন লিটার পানি খরচ, পরিবেশে বড় ঝুঁকি!
একটি 100 মেগাওয়াটের AI ডেটা সেন্টার চালু করতে প্রায় 223 মিলিয়ন লিটার পানি লাগে। পরিবেশের ওপর এই গোপন প্রভাব নিয়ে নতুন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
একটি 100 মেগাওয়াটের AI ডেটা সেন্টার চালু করতে প্রায় 223 মিলিয়ন লিটার পানি লাগে। পরিবেশের ওপর এই গোপন প্রভাব নিয়ে নতুন গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিশাল অবকাঠামো তৈরি করতে শুধু বিদ্যুৎ নয়, প্রায় 223 মিলিয়ন লিটার পানি লাগে। AI Weekly-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি 100 মেগাওয়াট (MW) ক্ষমতার AI ডেটা সেন্টারের প্রাথমিক কুলিং ব্যবস্থা গড়তে এই বিপুল পরিমাণ পানি প্রয়োজন।
এই গবেষণা পরিবেশবাদীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ডেটা সেন্টারগুলো AI মডেল প্রশিক্ষণের সময় প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে, যা ঠান্ডা রাখতে নিরন্তর পানি সরবরাহের প্রয়োজন হয়। ফলে AI প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে, যা টেকসই উন্নয়নের প্রশ্ন তুলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু শুরুতে নয়, প্রতিদিনের কার্যক্রমেও এই ডেটা সেন্টারগুলোর প্রচুর পানি দরকার হয়। কুলিং টাওয়ার ও চিলার সিস্টেম চালাতে নিয়মিত পানি ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI-এর এই লুকানো পানি খরচ প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, কারণ বেশিরভাগ আলোচনা শুধু বিদ্যুৎ খরচের দিকেই কেন্দ্রীভূত।
তুলনামূলকভাবে, একটি সাধারণ অফিস ভবনের চেয়ে একটি AI ডেটা সেন্টার কয়েক হাজার গুণ বেশি পানি ব্যবহার করতে পারে। গবেষণাটি আরও জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন AI ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে, যার ফলে আগামী বছরগুলোতে পানির চাহিদা আরও বাড়বে। বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে পানি স্বল্পতা রয়েছে, সেখানে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশে তথ্যপ্রযুক্তি খাত ও ফ্রিল্যান্সিং শিল্প দ্রুত বাড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান এখন AI-ভিত্তিক সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ডেটা সেন্টার স্থাপনের আগে পানির সহজলভ্যতা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উচিত পানি সাশ্রয়ী কুলিং প্রযুক্তি বেছে নেওয়া, যেমন লিকুইড কুলিং বা ফ্রি কুলিং সিস্টেম।
পাশাপাশি সরকারের উচিত ডেটা সেন্টার স্থাপনে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই খাতে কঠোর নিয়ম চালু হচ্ছে। বাংলাদেশও এগিয়ে এলে AI খাতের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।
সবশেষে, এই গবেষণা প্রমাণ করে যে AI শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব নয়, এটি একটি পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও। ভবিষ্যতে টেকসই AI সমাধানের জন্য গবেষণা ও বিনিয়োগ জরুরি। পানি সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হলে শুধু পরিবেশই বাঁচবে না, AI-এর খরচও কমবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: dev.to ML
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...