AI চ্যাটবটে বামপন্থী ঝোঁক, আপনার তথ্য কি পক্ষপাতদুষ্ট হচ্ছে?
ওয়াশিংটন পোস্টের এক তদন্তে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বড় AI চ্যাটবট রাজনৈতিক প্রশ্নে বামপন্থী মতামত দেয়। এমনকি ইলন মাস্কের ‘অ্যান্টি-ওয়োক’ Grok-ও অধিকাংশ সময় বাম দিকে ঝুঁকেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে গুগলের জেমিনাই 93 শতাংশ সময় উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক তদন্তে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বড় AI চ্যাটবট রাজনৈতিক প্রশ্নে বামপন্থী মতামত দেয়। এমনকি ইলন মাস্কের ‘অ্যান্টি-ওয়োক’ Grok-ও অধিকাংশ সময় বাম দিকে ঝুঁকেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে গুগলের জেমিনাই 93 শতাংশ সময় উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করেছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক তদন্তে দেখা গেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় AI চ্যাটবটগুলো রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বামপন্থী অবস্থান নিচ্ছে। গবেষণায় দেখা যায়, OpenAI-এর GPT-5.5 মডেলটি 80 শতাংশ সময় শুধুমাত্র বামপন্থী যুক্তি উপস্থাপন করেছে। এই প্রবণতা শুধু প্রচলিত মডেলগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইলন মাস্কের ‘অ্যান্টি-ওয়োক’ বলে পরিচিত Grok-ও অধিকাংশ সময় বাম দিকে ঝুঁকেছে।
এই গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ AI চ্যাটবটগুলো এখন দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা গবেষণার জন্য, সাংবাদিকরা তথ্য যাচাইয়ের জন্য এবং ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এসব টুল ব্যবহার করে। যদি চ্যাটবটগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই একপাক্ষিক তথ্যের সংস্পর্শে আসতে পারে। এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, GPT-5.5 মডেলের আচরণ। এটি 80 শতাংশ সময় বামপন্থী অবস্থান নিয়েছে, যা অন্য যেকোনো মডেলের চেয়ে বেশি। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের Grok-কে ‘অ্যান্টি-ওয়োক’ বা ‘জাগরণ-বিরোধী’ হিসেবে বাজারজাত করা হলেও এটি অধিকাংশ সময় বামপন্থী মতামতই প্রকাশ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, মডেল তৈরির সময় ব্যবহৃত ডেটা এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি মডেলের রাজনৈতিক ঝোঁক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একমাত্র ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা গেছে গুগলের জেমিনাই 3.1 Pro মডেলটি। এটি 93 শতাংশ সময় উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন করেছে। গবেষকরা মনে করছেন, গুগল তাদের মডেলকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। তবে এটাও উল্লেখযোগ্য যে, জেমিনাই মডেলটি বাকি 7 শতাংশ সময় বামপন্থী অবস্থান নিয়েছে, ডানপন্থী অবস্থান নেয়নি।
বাংলাদেশের জন্য এই গবেষণার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশে AI চ্যাটবটের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফ্রিল্যান্সাররা কনটেন্ট তৈরি করতে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় এবং ব্যবসায়ীরা গ্রাহক সেবায় AI চ্যাটবট ব্যবহার করছে। যদি চ্যাটবটগুলো পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে বাংলাদেশি ব্যবহারকারীরাও এর প্রভাব থেকে বাঁচতে পারবে না। বিশেষ করে যারা ইংরেজি মাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভরশীল, তারা অজান্তেই একপাক্ষিক মতামত গ্রহণ করতে পারে।
উপসংহারে বলা যায়, AI চ্যাটবটের রাজনৈতিক পক্ষপাত একটি বাস্তব সমস্যা। কোম্পানিগুলোকে তাদের মডেল আরও স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ করতে কাজ করতে হবে। ব্যবহারকারীদেরও সচেতন থাকতে হবে যে, AI চ্যাটবটের দেওয়া তথ্য সবসময় নিরপেক্ষ নয়। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এবং নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: The Decoder
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...