AI বুদ্বুদ ফাটলেও লাভ হবে যেসব স্টকে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বুদ্বুদ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। কিন্তু এই বুদ্বুদ ফাটলেও কিছু স্টক যে ব্যাপক লাভবান হতে পারে, তা জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বুদ্বুদ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। কিন্তু এই বুদ্বুদ ফাটলেও কিছু স্টক যে ব্যাপক লাভবান হতে পারে, তা জানিয়েছে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতে বুদ্বুদ তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। সম্প্রতি AOL-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বুদ্বুদ ফাটলেও কিছু নির্দিষ্ট স্টক ব্যাপক লাভবান হতে পারে। প্রতিবেদনটি AI বাজার প্রবণতা বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছে।
AI খাতের এই বুদ্বুদ নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে AI-সম্পর্কিত কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে ChatGPT-এর মতো টুল জনপ্রিয় হওয়ার পর থেকে AI-তে বিনিয়োগের প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই দরবৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত আয়ের তুলনায় বেশি। ফলে যেকোনো সময় বাজার ধস নামতে পারে।
AOL-এর প্রতিবেদনে এমন 5 থেকে 7টি স্টকের কথা বলা হয়েছে, যেগুলো AI বুদ্বুদ ফাটলেও ভালো করবে। এই স্টকগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট (Google-এর মূল কোম্পানি), এনভিডিয়া, অ্যামাজন এবং মেটা। এই কোম্পানিগুলোর শুধু AI-তে নয়, তাদের মূল ব্যবসায় বৈচিত্র্য রয়েছে। ফলে AI খাতে মন্দা এলেও তারা টিকে থাকতে পারবে।
বিশেষ করে এনভিডিয়ার কথা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে। এনভিডিয়া AI চিপের বাজারে প্রায় 80 শতাংশ শেয়ার ধরে রেখেছে। কিন্তু কোম্পানিটি শুধু AI-চিপেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের GPU (গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) গেমিং, ডেটা সেন্টার এবং অটোমোবাইল খাতেও ব্যবহৃত হয়। তাই AI বুদ্বুদ ফাটলেও এনভিডিয়ার রাজস্ব আয়ের একাধিক উৎস থাকবে।
অন্যদিকে মাইক্রোসফট ও অ্যামাজনের মতো কোম্পানিগুলো ক্লাউড কম্পিউটিং খাতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের Azure এবং AWS পরিষেবা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম। AI-র বাড়তি চাহিদা থাকুক বা না থাকুক, এই ক্লাউড পরিষেবা থেকে তাদের নিয়মিত আয় হয়। ফলে বাজারের ওঠানামা তাদের তেমন প্রভাবিত করবে না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশে এখন বহু তরুণ AI-সম্পর্কিত কাজ করছে। ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ এবং সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো AI টুল ব্যবহার করে নতুন নতুন সেবা দিচ্ছে। যদি AI বুদ্বুদ ফাটে, তাহলে এই খাতের বিনিয়োগ কমতে পারে। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের মূল কাজে AI-র পাশাপাশি অন্যান্য প্রযুক্তিও ব্যবহার করে, তারা টিকে থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত শুধু AI-নির্ভর কোম্পানিতে বিনিয়োগ না করে বহুমুখী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা। কারণ AI-র এই বুদ্বুদ ফাটলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলো। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানগুলো বরং আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
সামগ্রিকভাবে, AI বুদ্বুদ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ প্রযুক্তি খাতে বুদ্বুদ ফাটা নতুন কিছু নয়। 2000 সালের ডট-কম বুদ্বুদ ফাটার পরও বহু কোম্পানি টিকে ছিল এবং আজ তারা বাজারের শীর্ষে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...