AI বিনিয়োগের লুকানো খরচ জানলে লাভ হবে ৩ গুণ, বলছে বিসিজি রিপোর্ট
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের নতুন রিপোর্ট বলছে, এআই বাস্তবায়নের প্রকৃত খরচ শুধু প্রাথমিক বিনিয়োগ নয়। সিইওদের লুকানো খরচ ও কৌশলগত আরওআই বুঝতে হবে।
বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের নতুন রিপোর্ট বলছে, এআই বাস্তবায়নের প্রকৃত খরচ শুধু প্রাথমিক বিনিয়োগ নয়। সিইওদের লুকানো খরচ ও কৌশলগত আরওআই বুঝতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বাস্তবায়নের প্রকৃত খরচ অনেক বেশি হতে পারে যা অনেক প্রতিষ্ঠান প্রথমে কল্পনা করে না। বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপ বা বিসিজি তাদের নতুন এক রিপোর্টে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেছে। রিপোর্টের শিরোনাম হলো Return on AI: What CEOs Need to Know About the True Cost of Artificial Intelligence। এই রিপোর্টে সিইওদের জন্য এআই বিনিয়োগের সঠিক মূল্যায়নের একটি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিসিজি রিপোর্টটি বিশেষভাবে জোর দিয়েছে যে এআই গ্রহণের সাফল্য শুধু প্রাথমিক বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। বরং এর পেছনে লুকানো অনেক খরচ রয়েছে যা সঠিকভাবে হিসাব না করলে বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফলাফল পাওয়া যায় না। এই লুকানো খরচগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিভা সংগ্রহ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবর্তন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রতিভা সংগ্রহ বলতে এআই বিশেষজ্ঞ, ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং মেশিন লার্নিং ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের খরচ বোঝানো হয়েছে। অবকাঠামো খরচের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী কম্পিউটিং সিস্টেম, ডেটা স্টোরেজ এবং ক্লাউড সার্ভিসের মতো প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা। পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা বলতে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের খরচ বোঝানো হয়েছে।
বিসিজি রিপোর্টে এআই বিনিয়োগের কৌশলগত আরওআই বা বিনিয়োগের ওপর প্রত্যাশিত আয় পরিমাপের একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অনুযায়ী, শুধু আর্থিক লাভ নয়, বরং গ্রাহক সন্তুষ্টি, কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার মতো বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই গ্রহণের সম্পূর্ণ খরচ বুঝতে পারে না, তারা প্রায়ই প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ রেখে দেয় বা প্রত্যাশিত ফলাফল পায় না।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই রিপোর্টের বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উদীয়মান প্রযুক্তি খাত, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো এআই গ্রহণের সময় এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, টেলিকম এবং ই-কমার্স খাতে এআই বাস্তবায়নের প্রবণতা বাড়ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও বাজেট ছাড়া বড় বিনিয়োগ ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সিইওদের জন্য বিসিজি রিপোর্টের মূল বার্তা হলো, এআই বিনিয়োগকে একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে দেখা উচিত। প্রাথমিক খরচ ছাড়াও লুকানো খরচ এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তবেই এআই থেকে প্রকৃত মূল্য পাওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এআই প্রযুক্তি আরও উন্নত হবে এবং এর ব্যয়ও পরিবর্তিত হবে। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিয়মিতভাবে তাদের এআই কৌশল পর্যালোচনা করা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews AI Global
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...