AI আসছে, চাকরি যাচ্ছে: ডাম্বিসা ময়োর সতর্কবার্তা বাংলাদেশের জন্যও
বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডাম্বিসা ময়ো বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী চাকরি কমিয়ে দিতে পারে এবং এটি একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার সূচনা করছে। তবে AI-এর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডাম্বিসা ময়ো বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী চাকরি কমিয়ে দিতে পারে এবং এটি একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার সূচনা করছে। তবে AI-এর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। সম্প্রতি ব্লুমবার্গ টেককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থনীতিবিদ, লেখক ও হাউস অফ লর্ডসের সদস্য ডাম্বিসা ময়ো বলেছেন, AI প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী চাকরি হ্রাস করতে পারে এবং এটি একটি নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার সূচনা করছে।
ময়ো তার বক্তব্যে বলেন, AI-এর অগ্রগতি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি একে 'নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রারম্ভিক ইনিংস' বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রযুক্তির এই ধারা চাকরির বাজারকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। তবে তিনি স্বীকার করেন, AI-এর দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রভাব কেমন হবে তা নিয়ে এখনও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ব্লুমবার্গের রোমেইন বস্টিকের সাথে আলোচনায় ময়ো বলেন, প্রযুক্তির উন্নতি যত দ্রুত হচ্ছে, চাকরি হারানোর আশঙ্কাও তত বাড়ছে। তিনি বিশেষ করে সাদা কলার বা হোয়াইট কলার চাকরিগুলোর ওপর AI-এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই চাকরিগুলোতে সাধারণত অফিসের কাজ, ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকে।
ময়োর মতে, বর্তমান সময়ে AI-এর প্রভাব বোঝা অনেকটা ১৯৯০-এর দশকে ইন্টারনেটের প্রভাব বোঝার মতো। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে ইন্টারনেট আজকের মতো বিশ্ব অর্থনীতিকে বদলে দেবে। একইভাবে, AI-এর সম্পূর্ণ প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক দশক লেগে যেতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও আইটি পেশাজীবীরা বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত। AI যদি বিশ্বব্যাপী চাকরি কমিয়ে দেয়, তাহলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। অন্যদিকে, AI-কে কাজে লাগিয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করাও সম্ভব।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের এখন থেকেই AI প্রযুক্তি শেখা শুরু করা উচিত। সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে AI-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। কারণ ময়ো যেমন বলেছেন, যারা AI-কে বুঝতে পারবে এবং ব্যবহার করতে শিখবে, তারাই নতুন বিশ্ব ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকবে।
ময়ো শেষ পর্যন্ত আশাবাদী যে AI মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সঠিক নীতি ও প্রস্তুতি। বিশ্ব নেতাদের উচিত AI-এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ নেওয়া।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Bloomberg Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...