৫ বছরে ইলেকট্রনিক্সে শীর্ষ গন্তব্য হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, কী সুবিধা পাবেন আপনি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে পাঁচ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে খাতটির রূপান্তর ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করতে পাঁচ বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে খাতটির রূপান্তর ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার দেশকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে এই লক্ষ্য উল্লেখ করা হয়েছে। ডেইলি স্টার টেক এই তথ্য জানিয়েছে।
সরকার ইলেকট্রনিক্স খাতে উপযুক্ত নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য খাতটির রূপান্তর ঘটিয়ে দেশকে বিশ্ববাজারে একটি নির্ভরযোগ্য উৎপাদন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। বর্তমানে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স পণ্যের একটি বড় ভোক্তা বাজার। কিন্তু স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা এখনও অনেক পিছিয়ে আছে।
এই উদ্যোগের ফলে দেশীয় শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন, টেলিভিশন, হোম অ্যাপ্লায়েন্সেস এবং কম্পিউটার যন্ত্রাংশের মতো পণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে। বর্তমানে এসব পণ্যের একটি বড় অংশ আমদানি করতে হয়। নতুন নীতি সেই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করবে।
সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে। প্রথমত, ইলেকট্রনিক্স খাতের জন্য একটি পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কর সুবিধা ও অন্যান্য প্রণোদনা দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও ভিয়েতনাম ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে বড় সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে বাংলাদেশকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স খাত বর্তমানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাজার। দেশে বেশ কয়েকটি স্থানীয় ব্র্যান্ড মোবাইল ফোন ও টেলিভিশন একত্রিত করছে। কিন্তু মূল যন্ত্রাংশ বা সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চপ্রযুক্তির উপাদান এখনও তৈরি হয় না। নতুন নীতি সেই শূন্যস্থান পূরণে সহায়ক হতে পারে। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় একটি সুযোগ তৈরি করবে।
এই উদ্যোগ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দেশে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক প্রকৌশলী ও আইটি গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে। ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে উঠলে তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফ্রিল্যান্সার ও ছোট প্রযুক্তি ব্যবসার জন্যও স্থানীয়ভাবে যন্ত্রাংশ পাওয়া সহজ হবে। এর ফলে খরচ কমবে এবং পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সরকারের এই পাঁচ বছরের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। ইলেকট্রনিক্স খাত দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তবে সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সুশাসন, দক্ষ জনবল ও আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Daily Star Tech
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...