১৩ মিলিয়ন ডলারে ChatGPT চুক্তি নবায়ন, শিক্ষার্থীদের কী লাভ হবে
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ১৩ মিলিয়ন ডলারের ChatGPT চুক্তি নবায়ন করেছে। অন্যদিকে একটি জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মনে করেন AI শিক্ষায় তেমন সহায়ক নয়। এই বৈপরীত্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ১৩ মিলিয়ন ডলারের ChatGPT চুক্তি নবায়ন করেছে। অন্যদিকে একটি জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মনে করেন AI শিক্ষায় তেমন সহায়ক নয়। এই বৈপরীত্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (CSU) তাদের ১৩ মিলিয়ন ডলারের ChatGPT চুক্তি নবায়ন করেছে। এই চুক্তির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টি OpenAI-এর জনপ্রিয় AI চ্যাটবটটি ব্যবহার করতে থাকবে। খবরটি প্রথম প্রকাশ করেছে ইয়াহু নিউজ।
এই চুক্তি নবায়নের খবর এসেছে ঠিক সেই সময়ে, যখন একটি নতুন জরিপে দেখা গেছে যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক AI-এর শিক্ষাগত মূল্য নিয়ে সন্দিহান। জরিপটি পরিচালিত হয়েছিল CSU-এর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে। ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী এবং ৫৫ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন AI শিক্ষার মান উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখছে না।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ChatGPT শিক্ষার্থীদের লেখালেখি এবং গবেষণার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে। তারা বলছে, AI সরঞ্জামগুলি শিক্ষার্থীদের জটিল বিষয় বুঝতে এবং সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিকাশে সহায়তা করছে। কিন্তু জরিপের ফলাফল সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে যে ChatGPT মাঝে মাঝে ভুল তথ্য দেয় এবং একাডেমিক সততার প্রশ্ন তুলে দেয়। শিক্ষকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে শিক্ষার্থীরা নিজেরা চিন্তা করার পরিবর্তে AI-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া অধ্যাপকদের মতে, AI ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার দক্ষতা হ্রাস পেতে পারে।
CSU কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছে যে তারা AI ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করবে। তারা শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে যাতে AI সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা AI-কে শিক্ষার সহায়ক হিসেবে দেখছি, প্রতিস্থাপন হিসেবে নয়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ChatGPT এবং অন্যান্য AI টুল ব্যবহার শুরু করেছে। ফ্রিল্যান্সার এবং ডেভেলপারদের জন্যও AI একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে। কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে AI-এর কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশেও প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য AI-এর সঠিক ব্যবহার শেখা জরুরি। একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত AI ব্যবহারের জন্য স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা। শুধু প্রযুক্তি হাতে নেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং তা কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাও শেখানো প্রয়োজন।
ভবিষ্যতে AI শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। কিন্তু এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে কীভাবে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। CSU-এর এই চুক্তি নবায়ন এবং জরিপের ফলাফল দেখায় যে AI-কে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার পথটি মসৃণ নয়।
CSU তাদের ১৩ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগকে সঠিক প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের সন্দেহ দূর করতে তাদের আরও অনেক কাজ করতে হবে। AI শিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও পড়ুন
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: GNews LLM Models
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...