প্রতারণা রুখতে AI: বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে TechnoNext-এর বিপ্লব
TechnoNext Software-এর AI চালিত ফ্রড ডিটেকশন সিস্টেম বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতি শনাক্তে ৯৫% নির্ভুলতা দেখিয়েছে। রিয়েল-টাইম লেনদেন বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ব্লক করে এই প্রযুক্তি আর্থিক নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
TechnoNext Software-এর AI চালিত ফ্রড ডিটেকশন সিস্টেম বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে জালিয়াতি শনাক্তে ৯৫% নির্ভুলতা দেখিয়েছে। রিয়েল-টাইম লেনদেন বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ ব্লক করে এই প্রযুক্তি আর্থিক নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা খাত (BFSI) দ্রুত ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে, কিন্তু এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জালিয়াতি ও সাইবার প্রতারণার ঘটনা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান TechnoNext Software সম্প্রতি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত ফ্রড ডিটেকশন সিস্টেম তৈরি করেছে, যা ইতোমধ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে সফলভাবে স্থাপন (deploy) করা হয়েছে। এই সিস্টেম রিয়েল-টাইমে লেনদেন বিশ্লেষণ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে পারে।
TechnoNext-এর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (CTO) জানান, প্রচলিত রুল-বেসড সিস্টেমের তুলনায় তাদের AI মডেল ৯৫% নির্ভুলতার সাথে জালিয়াতি শনাক্ত করতে সক্ষম। সিস্টেমটি মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে প্রতিটি গ্রাহকের স্বাভাবিক লেনদেনের প্যাটার্ন শিখে নেয়। যখনই কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন ঘটে—যেমন হঠাৎ করে বিপুল অঙ্কের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর বা অপরিচিত স্থান থেকে লগইন—সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে অ্যালার্ট পাঠায় এবং লেনদেনটি ব্লক বা হোল্ড করে রাখে। বর্তমানে এই সিস্টেমটি একটি বেসরকারি ব্যাংকের ৫০ লাখ গ্রাহকের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করছে, যেখানে গত তিন মাসে ১২০০-এর বেশি সম্ভাব্য জালিয়াতি ঘটনা আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে জালিয়াতির ঘটনা ৪০% বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে TechnoNext-এর AI সিস্টেম শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ করছে না, বরং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতেও ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে ডিজিটাল লেনদেনের হার বাড়ছে, সেখানে এই প্রযুক্তি প্রতারণার ঝুঁকি কমিয়ে দিচ্ছে। সিস্টেমটি ব্যাংকের জন্য একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করে, যেখানে প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ লেনদেনের বিস্তারিত রিপোর্ট দেখা যায়। ফলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।
তবে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জও ছিল। TechnoNext-এর টিম জানায়, স্থানীয় ব্যাংকগুলোর অবকাঠামো ও ডেটার মান উন্নত করতে তাদের অনেক সময় লেগেছে। অনেক ব্যাংকের পুরনো সিস্টেমের সাথে নতুন AI সফটওয়্যার সমন্বয় করা কঠিন ছিল। এছাড়া গ্রাহকদের তথ্য গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং GDPR-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলা একটি বড় দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানটি এই সমস্যা সমাধানে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন এবং ফেডারেটেড লার্নিং টেকনিক ব্যবহার করছে, যেখানে গ্রাহকের ডেটা ব্যাংকের সার্ভারেই প্রক্রিয়াজাত হয়।
বাংলাদেশের AI খাতে এই প্রকল্পটি একটি মাইলফলক। TechnoNext-এর সাফল্য দেখিয়ে দেয় যে দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা সমাধান তৈরি সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দুই বছরে যদি দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই ধরনের AI সিস্টেম ব্যবহার করে, তাহলে জালিয়াতির হার ৭০% পর্যন্ত কমে আসতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে ডেটা শেয়ারিংয়ের জন্য একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। TechnoNext ইতোমধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর জন্য তাদের সিস্টেমের সংস্করণ তৈরি করছে, যা সামগ্রিক BFSI খাতকে আরও সুরক্ষিত করবে।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: AIখবর রিসার্চ
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
