জাতিসংঘের বিজ্ঞানী বলছেন, এআই বুম নতুন ধরনের সাম্রাজ্যবাদ: বিশাল পানি, কার্বন ও জমির ব্যবহার
জাতিসংঘের বিজ্ঞানী এআই বুমকে নতুন সাম্রাজ্যবাদ বলেছেন। তিনি জানান, এআই প্রশিক্ষণে বিপুল পানি, কার্বন ও জমি লাগে। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
জাতিসংঘের বিজ্ঞানী এআই বুমকে নতুন সাম্রাজ্যবাদ বলেছেন। তিনি জানান, এআই প্রশিক্ষণে বিপুল পানি, কার্বন ও জমি লাগে। বাংলাদেশের ডেভেলপার ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) দ্রুত প্রসারকে নতুন এক ধরনের সাম্রাজ্যবাদ বলে অভিহিত করেছেন জাতিসংঘের এক বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এআই বুমের কারণে বিশাল পরিমাণ পানি, কার্বন নিঃসরণ এবং জমির ব্যবহার বাড়ছে। ডেমোক্রেসি নাওয়ের এক প্রতিবেদনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। এটি পরিবেশের ওপর এআই-এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
বিজ্ঞানী বলেছেন, একটি বড় ভাষার মডেল (LLM) যেমন GPT-5 প্রশিক্ষণ দিতে কয়েক লাখ লিটার পানি লাগতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন বিপুল বিদ্যুৎ, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আসে। ফলে কার্বন ফুটপ্রিন্ট আকাশছোঁয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য বিশাল জমির প্রয়োজন পড়ছে, যা কৃষি ও বনভূমি দখল করছে। এই প্রক্রিয়াকে তিনি বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর ওপর একটি নতুন ধরনের শোষণ বলেও মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই খবর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হাজার হাজার ডেভেলপার, ফ্রিল্যান্সার এবং শিক্ষার্থী প্রতিদিন ChatGPT, Gemini-র মতো এআই টুল ব্যবহার করছেন। তারা হয়তো জানেন না, এই ব্যবহারের পেছনে কতটা পরিবেশগত মূল্য দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে ডেটা সেন্টার বসানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে। কিন্তু পানি ও বিদ্যুতের সীমিত সম্পদ নিয়ে এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
শুধু ব্যবহারই নয়, এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতাও পরিবেশের জন্য হুমকি। বড় কোম্পানিগুলো যেমন OpenAI, Google, Microsoft দ্রুত আরও শক্তিশালী মডেল বাজারে আনছে। কিন্তু তারা পরিবেশগত প্রভাব কমাতে তেমন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। বিজ্ঞানী বলেছেন, এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে গিয়ে আমরা পৃথিবীর ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখছি। এটাই হলো নতুন সাম্রাজ্যবাদের আসল চেহারা।
তবে সব আশা শেষ নয়। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এটি একটি সুযোগও বটে। টেকসই এআই উন্নয়নের দিকে নজর দিয়ে আমরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি তৈরি করতে পারি। ফ্রিল্যান্সার ও ডেভেলপারদের উচিত ছোট, কিন্তু কার্যকরী মডেল ব্যবহার করা। সরকারকেও ডেটা সেন্টারের জন্য কঠোর পরিবেশগত বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Google News BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
