২০২৬ সালে AI-র জ্বালানি, পানি ও জমি ব্যবহার নিয়ে সতর্ক করল জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন বলছে, AI চালাতে পানি, জ্বালানি ও জমির ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও ডেভেলপারদের জন্য এটি বড় সতর্কবার্তা।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদন বলছে, AI চালাতে পানি, জ্বালানি ও জমির ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও ডেভেলপারদের জন্য এটি বড় সতর্কবার্তা।
জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় (UNU) তাদের নতুন AI Resource Consumption Report 2026-এ জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সিস্টেম চালাতে প্রচুর পানি, জ্বালানি এবং জমির প্রয়োজন হচ্ছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী AI চালানোর জন্য যে পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার হচ্ছে, তা আগামী পাঁচ বছরে তিনগুণ বেড়ে যেতে পারে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অপ্রস্তুত থাকলে এই সম্পদের চাহিদা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের AI মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ১.২ মিলিয়ন লিটার পানি প্রয়োজন, যা প্রায় ১০০টি পরিবারের এক বছরের পানির সমান। এছাড়াও, AI ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রচুর জ্বালানি খরচ হয়, যা কার্বন নিঃসরণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। UNU বলছে, এই সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য এখনই কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা জরুরি, নাহলে ভবিষ্যতে AI-র অগ্রগতি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশের জন্য এই খবর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ফ্রিল্যান্সার, ডেভেলপার এবং শিক্ষার্থীরা AI ব্যবহার করছে দ্রুত গতিতে। বিশেষ করে চ্যাটজিপিটি এবং জিপিটি-৫-এর মতো মডেল ব্যবহার করে তারা কাজ করছে। কিন্তু এই প্রতিবেদন দেখাচ্ছে, AI ব্যবহারের পেছনে যে বিপুল সম্পদ খরচ হয়, তার বোঝা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেশি পড়তে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশে পানির সংকট এবং জ্বালানির দাম বাড়ার মধ্যে AI-র সম্পদ চাহিদা একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের ব্যবসা ও স্টার্টআপগুলোর জন্য এই প্রতিবেদন থেকে শিক্ষা নেওয়ার সময় এসেছে। স্থানীয় ডেভেলপারদের উচিত শক্তি-সাশ্রয়ী AI মডেল এবং ক্লাউড সলিউশন বেছে নেওয়া। সরকারকেও ডেটা সেন্টার স্থাপনের সময় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা উচিত। ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও পরামর্শ, তারা যেন AI টুল ব্যবহারের সময় কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে অফ-পিক আওয়ারে কাজ করে।
সবশেষে, UNU-র এই প্রতিবেদন AI-র ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো যাবে না, কিন্তু তা যাতে পরিবেশের ওপর চাপ না ফেলে, সেটা নিশ্চিত করা দরকার। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য এখনই সচেতন হওয়ার সময়, যাতে AI-র সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সম্পদ সংরক্ষণও সম্ভব হয়।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: Google News BD-AI
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
