নাগাদ ডিজিটাল ব্যাংক: এমএল-চালিত ক্রেডিট স্কোরিংয়ে ৫০ লাখ মানুষের ঋণ সুযোগ
নাগাদ ডিজিটাল ব্যাংকের এমএল-চালিত ক্রেডিট স্কোরিং সিস্টেম বাংলাদেশের ৫০ লাখ আনব্যাংকড মানুষকে জামানতবিহীন ঋণ সুযোগ দিচ্ছে। বিকল্প ডেটা ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
নাগাদ ডিজিটাল ব্যাংকের এমএল-চালিত ক্রেডিট স্কোরিং সিস্টেম বাংলাদেশের ৫০ লাখ আনব্যাংকড মানুষকে জামানতবিহীন ঋণ সুযোগ দিচ্ছে। বিকল্প ডেটা ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে নাগাদ ডিজিটাল ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এমএল) ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং সিস্টেম চালু করেছে, যা দেশের প্রায় ৫০ লাখ আনব্যাংকড জনগোষ্ঠীকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এই উদ্যোগটি মূলত সেই সব মানুষকে লক্ষ্য করে যাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই, কিন্তু ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস রয়েছে।
নাগাদ ডিজিটাল ব্যাংকের এই এমএল মডেলটি ব্যবহারকারীর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের লেনদেন, কল রেকর্ড, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আচরণ বিশ্লেষণ করে ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করে। প্রচলিত ব্যাংকিংয়ে যেখানে জামানত বা পূর্ববর্তী ক্রেডিট ইতিহাস প্রয়োজন, সেখানে এই সিস্টেম বিকল্প ডেটা ব্যবহার করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করে। ফলে, গ্রামীণ এলাকার কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নিম্ন আয়ের মানুষ সহজেই ঋণ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশের এখনও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। নাগাদের এই প্রযুক্তি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। ইতোমধ্যে, পাইলট প্রকল্পে ২ লাখের বেশি ব্যবহারকারীকে ঋণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ঋণ পরিশোধের হার ৯৫ শতাংশের বেশি। এটি প্রমাণ করে যে, আনব্যাংকড জনগোষ্ঠীও দায়িত্বশীল ঋণগ্রহীতা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের ফিনটেক ইকোসিস্টেমে একটি মাইলফলক। নাগাদ ডিজিটাল ব্যাংকের সিইও জানিয়েছেন, তারা আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সেবা ১ কোটিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করছেন। তবে, ডেটা গোপনীয়তা এবং অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। নাগাদ ইতোমধ্যে পিএসডি২ এবং বিডিএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে, যা এই সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ: আপনার ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস যদি নিয়মিত হয়, তাহলে নাগাদের অ্যাপে আপনার ক্রেডিট স্কোর চেক করতে পারেন। এটি আপনার ভবিষ্যত ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া, নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করুন। বাংলাদেশের এআই খাতে এই ধরনের উদ্ভাবন দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: AIখবর রিসার্চ
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
