নগদ ডিজিটাল ব্যাংক: এমএল-চালিত ক্রেডিট স্কোরিংয়ে ৫০ লাখ অসেবিত বাংলাদেশি ঋণ পাচ্ছে
নগদ ডিজিটাল ব্যাংক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫০ লাখ অসেবিত বাংলাদেশিকে ঋণ দিচ্ছে। বিকল্প ডেটা বিশ্লেষণ করে ক্রেডিট স্কোরিং করায় ঋণ পরিশোধের হার ৯৫%। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও এআই খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
নগদ ডিজিটাল ব্যাংক মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৫০ লাখ অসেবিত বাংলাদেশিকে ঋণ দিচ্ছে। বিকল্প ডেটা বিশ্লেষণ করে ক্রেডিট স্কোরিং করায় ঋণ পরিশোধের হার ৯৫%। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও এআই খাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি মেশিন লার্নিং (এমএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্রেডিট স্কোরিং সিস্টেম চালু করেছে, যা দেশের প্রায় ৫০ লাখ আনব্যাংকড (অসেবিত) জনগোষ্ঠীকে ঋণ সুবিধা প্রদান করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাদের আগে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকার কারণে কোনো ঋণ নেওয়ার সুযোগ ছিল না, তারা এখন সহজেই ডিজিটাল মাধ্যমে স্বল্প ও মধ্যমেয়াদী ঋণ পাচ্ছেন। নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের সিইও জানিয়েছেন, এই সিস্টেমটি ব্যবহারকারীর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) লেনদেন ইতিহাস, কল ডেটা এবং অন্যান্য ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে নির্ভুলভাবে ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০% এখনও কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায় আসেনি, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকায়। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জামানত ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং কৃষকদের জন্য ঋণ পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। নগদের এমএল-চালিত ক্রেডিট স্কোরিং এই বাধা দূর করে ঐতিহ্যবাহী ক্রেডিট স্কোরের পরিবর্তে বিকল্প ডেটা (যেমন মোবাইল রিচার্জের অভ্যাস, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ) ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে ১০ লাখের বেশি গ্রাহক এই সুবিধা নিয়েছেন, যাদের গড় ঋণের পরিমাণ ৫,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকার মধ্যে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি শুধু আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং ঋণখেলাপির ঝুঁকিও কমাচ্ছে। নগদের তথ্য অনুযায়ী, এমএল মডেল ব্যবহারের ফলে ঋণ পরিশোধের হার ৯৫% ছাড়িয়ে গেছে, যা প্রচলিত ব্যাংকগুলোর চেয়ে অনেক ভালো। কারণ সিস্টেমটি প্রতিটি লেনদেন রিয়েল-টাইমে মনিটর করে এবং কোনো গ্রাহকের আচরণ পরিবর্তন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্রেডিট লিমিট সামঞ্জস্য করে। এছাড়া, এটি ব্যাংকগুলোর জন্য অপারেশনাল খরচ কমিয়ে দিচ্ছে, কারণ ম্যানুয়াল ভেরিফিকেশন ও পেপারওয়ার্কের প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক গভর্নর মন্তব্য করেছেন, “এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি মাইলফলক।”
তবে এই সিস্টেমের কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। ডেটা প্রাইভেসি এবং অ্যালগরিদমিক বায়াস নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, কারণ অনেক গ্রাহক তাদের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করতে দ্বিধাবোধ করেন। নগদ ডিজিটাল ব্যাংক জানিয়েছে, তারা বিডিএস (বাংলাদেশ ডেটা সিকিউরিটি) আইন মেনে চলছে এবং স্বচ্ছতার জন্য গ্রাহকদের তাদের ক্রেডিট স্কোরিং প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করছে। এছাড়া, তারা গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে কর্মশালা চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই মডেলটি দেশের অন্যান্য ডিজিটাল ব্যাংক ও ফিনটেক কোম্পানির জন্য একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের এআই খাতে এই উদ্যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি প্রমাণ করে যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির জন্যই নয়, বরং সামাজিক সমস্যা সমাধানেও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের এই সাফল্য অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এআই-ভিত্তিক ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন প্রকল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে। দেশের ৫০ লাখ অসেবিত মানুষকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আনার মাধ্যমে এটি শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে না, বরং দারিদ্র্য বিমোচনেও সহায়তা করবে। তাই এই মডেলটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যতের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই সংবাদটি আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অবলম্বনে AI-সহায়তায় বাংলায় উপস্থাপন ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্পাদিত। মূল তথ্যের জন্য নিচের সূত্র দেখুন।
মূল প্রতিবেদন: AIখবর রিসার্চ
সোর্স দেখুন ↗মন্তব্য০
লোড হচ্ছে...
